যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চার মাসের যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে ইয়েমেনের হুতি আন্দোলন (আনসারআল্লাহ)। এবার তারা যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি কোম্পানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে আরও নয়জন ব্যক্তি ও দুটি জাহাজকে।
মঙ্গলবার সানায় হুতি-নিয়ন্ত্রিত হিউম্যানিটারিয়ান অপারেশনস কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (HOCC) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়।
চলতি বছরের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও হুতিদের মধ্যে হামলা বন্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। তবে সেপ্টেম্বরের শুরুতে ওয়াশিংটন হুতিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ইয়েমেনে ইরান-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় মার্কিন পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।
তখন মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ঘোষণা করে, ৩২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং চারটি জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অর্থ সংগ্রহ, চোরাচালান এবং হামলায় সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ছিল। ওই তালিকায় কয়েকটি চীনা কোম্পানিও অন্তর্ভুক্ত ছিল, যাদের বিরুদ্ধে হুতিদের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের অভিযোগ আনা হয়।
২০২৩ সালের শেষ দিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র অভিযোগ করে আসছে যে, হুতিরা লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। এ সময় তারা শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, বিশেষ করে ইসরায়েল-সম্পৃক্ত জাহাজগুলোর ওপর। হুতিদের দাবি, এসব হামলা গাজায় ইসরায়েলি অভিযানের প্রতিশোধ এবং ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে।
সানার নতুন ঘোষণায় বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের আগের নিষেধাজ্ঞার পাল্টা জবাব হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আসা কোম্পানি, ব্যক্তি ও জাহাজগুলোর নাম প্রকাশ করেনি হুতি কর্তৃপক্ষ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পাল্টাপাল্টি নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাষ্ট্র-হুতি সংঘাতকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে। এর ফলে লোহিত সাগর ও আরব উপদ্বীপে সামুদ্রিক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
Leave a comment