ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তাঁকে ইরানের ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করেছিল এবং তিনি বর্তমানে গৃহবন্দী—যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ প্রকাশিত এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদনে উত্থাপিত দাবিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আহমাদিনেজাদের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, জনমতকে বিভ্রান্ত করা এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি করাই ওই প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তাঁকে গৃহবন্দী করে রাখার দাবিও জোরালোভাবে অস্বীকার করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নিজেদের ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত প্রতিবেদনের পক্ষে অবস্থান জোরালো করতেই এ ধরনের অসত্য তথ্য প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যমটি।
এর আগে সোমবার (১৩ জুলাই) দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ আহমাদিনেজাদকে ইসরায়েলের সঙ্গে সহযোগিতায় রাজি করানোর চেষ্টা করেছিল। এমনকি তাঁকে ইরানের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবেও বিবেচনা করা হয়েছিল।
প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হামলার পর দেশটিতে সরকার পরিবর্তনের বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ ছিল এই উদ্যোগ। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েল গোপনে আহমাদিনেজাদের বাসস্থান ও বিদেশ সফরের ব্যয় বহন করেছে। বুদাপেস্টসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর একাধিক গোপন বৈঠকও হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমস আরও দাবি করে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরুর সময় পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলের এক বিমান হামলায় আহমাদিনেজাদের বাসভবন লক্ষ্যবস্তু হয়। এতে তাঁর দেহরক্ষীদের ভবন ও একটি বুলেটপ্রুফ গাড়ি ধ্বংস হয়।
ইরানের চার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, হামলার পর একটি কালো রঙের পিউজো গাড়িতে করে আহমাদিনেজাদকে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অভিযানের বিষয়ে অবগত কর্মকর্তাদের দাবি, গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মোসাদের সদস্যরা। তাঁকে ইরানের ভেতরে একটি গোপন নিরাপদ স্থানে নিয়ে গিয়ে নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে এ ঘটনায় আহমাদিনেজাদ ক্ষুব্ধ হন এবং ইসরায়েলের পরিকল্পনা নিয়ে তাঁর মধ্যে সংশয় তৈরি হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত। ২০০৫ সালে এক সম্মেলনে ইসরায়েলকে ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন তিনি।
Leave a comment