মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে ২৫০ জন আরোহী নিয়ে একটি দ্রুতগামী ট্রেন লাইনচ্যুত হলে ১৩ যাত্রী নিহত এবং ৯৮ জন আহত হয়েছে। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছে ।
দেশটির রেলপথ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা নৌবাহিনী জানায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির একাধিক লোকোমোটিভ হঠাৎ লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে আহতের সংখ্যা কম জানানো হলেও উদ্ধারকাজ ও চিকিৎসা কার্যক্রম অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হতাহতের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হয়। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রকাশিত সংশোধিত বিবৃতিতে নৌবাহিনী নিশ্চিত করে যে আহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৮ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জরুরি সেবা সংস্থা, সেনাবাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। দুর্গম ও পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধারকাজে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলেও আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত চিকিৎসক ও ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেনবাউম এ দুর্ঘটনাকে “গভীরভাবে বেদনাদায়ক” উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি নৌবাহিনীর সেক্রেটারি ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শনের নির্দেশ দেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহায়তার আহ্বান জানান। প্রেসিডেন্টের দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহন করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো রেললাইন, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, ট্রেনের যান্ত্রিক অবস্থা এবং সম্ভাব্য মানবিক ত্রুটি—সব দিক খতিয়ে দেখছে। প্রাথমিকভাবে কোনো নাশকতার আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানালেও, কর্তৃপক্ষ বলছে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, যে রেলপথে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেটি মেক্সিকো উপসাগরীয় অঞ্চল ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার মধ্যে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। ২০২৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেস ম্যানুয়েল লোপেজ ওব্রাদোর সরকারের উদ্যোগে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এই রেলপথ চালু করা হয়। অবকাঠামো উন্নয়ন ও আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে প্রকল্পটি ব্যাপক গুরুত্ব পেয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা রেলপথটির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গত ২০ ডিসেম্বর একই রুটে রেললাইন পার হওয়ার সময় একটি মালবাহী ট্রাকের সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যদিও সে ঘটনায় কোনো প্রাণহানি হয়নি, তবু নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন বিশেষজ্ঞরা।
Leave a comment