নিরাপত্তা শঙ্কা ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে দেশজুড়ে নিজের সব ওয়াজ ও তাফসির মাহফিল স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা ও জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমির হামজা।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকা এই বক্তার এমন সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে মুফতি আমির হামজা এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। পোস্টে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সংকট এবং দেশের চলমান সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন,“প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। আমি অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, নিরাপত্তা সংকট ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমার ওয়াজ ও তাফসির মাহফিলের সকল সিডিউল আজ থেকে স্থগিত ঘোষণা করছি। এমন কঠিন সিদ্ধান্তের জন্য আমার তাফসির মাহফিলের সিডিউল নেওয়া সম্মানিত আয়োজক কমিটির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আপনারা আমাকে দোয়ায় শামিল রাখবেন।”
এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য মুফতি আমির হামজার সব ধর্মীয় কর্মসূচি বন্ধ থাকছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তিনি পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি, তবে আয়োজক ও অনুসারীদের মধ্যে বিষয়টি ঘিরে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
মুফতি আমির হামজা সাম্প্রতিক সময়ে শুধু একজন ধর্মীয় বক্তা হিসেবেই নয়, বরং একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও আলোচনায় রয়েছেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামী তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করার পর থেকে তাঁর রাজনৈতিক উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে তাঁর ওয়াজ-মাহফিলে বিপুল জনসমাগম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অনুসরণ তাঁকে একটি প্রভাবশালী অবস্থানে নিয়ে গেছে।
এই ঘোষণার আগে একই দিন বিকেলে কুষ্টিয়ায় এক বিক্ষোভ মিছিলে বক্তব্য দেওয়ার সময় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক আবুল হাশেম অসুস্থ হয়ে মারা যান। জানা গেছে, মুফতি আমির হামজাকে ঘিরে হুমকির প্রতিবাদে আয়োজিত ওই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনাটি কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া ফেলে। জেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতার আকস্মিক মৃত্যু দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করে। অনেকেই এটিকে একটি ‘বেদনাদায়ক ও অপ্রত্যাশিত ক্ষতি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
জেলা আমিরের মৃত্যুর পরপরই মুফতি আমির হামজা আরেকটি ফেসবুক পোস্টে গভীর শোক প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন,“আমার অভিভাবককে হারিয়ে ফেলেছি। হে আল্লাহ, এ কোন পরীক্ষা?”
মুফতি আমির হামজার ওয়াজ-মাহফিল স্থগিতের ঘোষণায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে তাঁর অনুসারীরা নিরাপত্তার স্বার্থে সিদ্ধান্তটিকে সমর্থন জানাচ্ছেন, অন্যদিকে অনেক আয়োজক ও ধর্মপ্রাণ শ্রোতা হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় আগে থেকেই নির্ধারিত মাহফিল বাতিল হওয়ায় স্থানীয় আয়োজক কমিটিগুলো নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।
Leave a comment