রাজধানীর মিরপুরের পাইকপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে ফেলে দিনমজুর সাহিদুল হাসান ওরফে জিতুকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি সাব্বির পুলিশের রিমান্ডে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
আজ শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রিমান্ডের প্রথম দিনে জিজ্ঞাসাবাদে সাব্বির হত্যার কথা স্বীকার করলেও তিনি ঘটনার বিবরণে বারবার ভিন্ন কথা বলছেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার বিকেলে সাহিদুলকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় পাইকপাড়ার ঈশা খাঁ সড়কের একটি নির্মাণাধীন দশতলা ভবনে। পরে সেখানকার সপ্তম তলা থেকে তাকে লিফট বসানোর ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত সাহিদুলকে দ্রুত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) নেওয়া হলেও সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পরপরই সাহিদুলের পূর্বপরিচিত যুবক সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। বৃহস্পতিবার তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন জানায় পুলিশ। আদালত দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন জানান, “সাব্বির প্রথমে সাহিদুলকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও এখন তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছেন। তিনি বারবার নিজের বক্তব্য বদলাচ্ছেন।”
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, নিহত সাহিদুল ও আসামি সাব্বির একসঙ্গে চলাফেরা করতেন। সাহিদুলের বাবা শাহিন মিয়াকে মাদক নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে সাহিদুল ও তার স্ত্রী রোজিনার সঙ্গে একাধিকবার ঝগড়ায় জড়ান সাব্বির।
পুলিশ জানায়, সাহিদুল মৃত্যুর আগে হাসপাতালে স্বজনদের কাছে পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে যান। সেই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের ধারণা, সাব্বির বুধবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সাহিদুলকে ফোন করে বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার কথা বলেন এবং তাকে ঈশা খাঁ সড়কের নির্মাণাধীন ভবনের সামনে যেতে বলেন। সাহিদুল সেখানে গেলে, সাব্বির তাকে ভবনের সপ্তম তলায় নিয়ে যান, যেখানে আরও দু-তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন।
তারা একপর্যায়ে সাহিদুলের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং শেষে সাব্বির ও অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মিলে সাহিদুলকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। এতে তার ডান পা ভেঙে যায় এবং মাথায় প্রচণ্ড আঘাত পান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Leave a comment