উত্তাল ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে আবারও বড় ধরনের এক নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। লিবিয়া উপকূল থেকে ইতালির উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া একটি কাঠের নৌযান মাঝসাগরে ডুবে যাওয়ায় অন্তত ৭০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। রোববার (২৯ মার্চ) ইতালির এনজিও সংস্থা ‘মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান’ (MSH) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানানো হয়, গত শনিবার বিকেলে লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ভূমধ্যসাগরের ‘সার্চ অ্যান্ড রেস্কিউ’ এলাকায় নৌযানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। নৌযানটি লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তাজাউর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। লিবিয়ার তেলের খনি ‘বৌরি অয়েল ফিল্ড’ থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে এটি সাগরে তলিয়ে যায়।
ওই নৌযান থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং ২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত ব্যক্তিদের এবং মরদেহ দুটিকে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ ল্যাম্পেদুসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এনজিওটি জানিয়েছে, নৌকাটিতে নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ ছিল।
নৌযানটিতে ঠিক কতজন যাত্রী ছিলেন, তা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এনজিও এমএসএইচ-এর মতে নৌযানটিতে ১০৫ জন যাত্রী ছিলেন। তবে ইতালির ল্যাম্পেদুসাভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ‘আনসা নিউজ’ জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের বরাতে দাবি করেছে যে, নৌযানটিতে মোট ১৮০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। সেই তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজের সংখ্যা ৮০-এর বেশি হতে পারে। কোস্ট গার্ডের টহল নৌযান ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই একটি বড় অংশ সাগরে তলিয়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিখোঁজদের স্মরণে গভীর শোক প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা বলছেন, বিপজ্জনক এই সমুদ্রযাত্রা ঠেকাতে এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে একটি নিরাপদ ও মানবিক অভিবাসন নীতি গ্রহণ করতে হবে। ভূমধ্যসাগর বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বিপজ্জনক অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রায়শই এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।
উল্লেখ্য, লিবিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি পৌঁছানো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য একটি প্রধান রুট, তবে দালালদের জরাজীর্ণ নৌযান এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহনের কারণে বারবার এমন ট্র্যাজেডি ঘটছে।
Leave a comment