সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল—এমন গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করে দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিকভাবে দুর্বল করে তোলে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, পেশাজীবী প্রতিনিধি এবং সমর্থকেরা উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, “জেলখানায় পর্যাপ্ত চিকিৎসা না দিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে পরিকল্পিতভাবে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল।” তিনি অভিযোগ করেন, কারাবন্দি অবস্থায় খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দলকে নানা ধরনের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতা আরও দাবি করেন, বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারি ছিল। তার ভাষায়, “ডিজিএফআই ও এনএসআই খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের সার্বক্ষণিক নজরে রাখত এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিত। এর ফলে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা স্বাধীনভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।”
রিজভীর বক্তব্যে উঠে আসে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের প্রসঙ্গও। তিনি বলেন, “বেগম জিয়া শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন, তিনি একটি রাজনৈতিক আন্দোলনের প্রতীক। তার নেতৃত্বের কারণেই এত দমন-পীড়ন চালিয়েও আওয়ামী লীগ বিএনপিকে নিঃশেষ করতে পারেনি।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমনে সরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহার করেছে। কারাগারকে পরিণত করা হয়েছিল নির্যাতনের জায়গায়। মানবিক বিবেচনায় চিকিৎসা দেওয়ার যে ন্যূনতম দায়, সেটিও পালন করা হয়নি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা। তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ কারাবাস ও চিকিৎসা সংক্রান্ত জটিলতা শুধু একটি ব্যক্তিগত ইস্যু নয়, বরং এটি দেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অবস্থার প্রতিফলন। তাদের দাবি, রাজনৈতিক মতভিন্নতার কারণে কাউকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হলে তা মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, খালেদা জিয়ার গুরুতর অসুস্থতার পরও বিদেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ দিতে সরকার দীর্ঘদিন গড়িমসি করেছে। ফলে তার শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটে। দোয়া মাহফিলে বক্তারা এ ঘটনাকে “রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতার নজির” হিসেবে উল্লেখ করেন।
সব মিলিয়ে, রিজভীর বক্তব্য আবারও দেশের রাজনীতিতে পুরোনো দ্বন্দ্ব ও ক্ষোভকে সামনে নিয়ে এসেছে। বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা ও কারাবাসের বিষয়টি যে শুধু অতীতের ঘটনা নয়, বরং বর্তমান
রাজনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত—তা এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
Leave a comment