আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারগামী বিমানের নিয়মিত ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেড। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ঢাকা–ম্যানচেস্টার–ঢাকা রুটে এই ফ্লাইট স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে।
রোববার (৪ জানুয়ারি) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংস্থাটির পরিচালনা পর্ষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই রুটে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তিনি বলেন, উড়োজাহাজের স্বল্পতা, আসন্ন হজ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি, বিদ্যমান উড়োজাহাজের দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন এবং পুরো নেটওয়ার্কজুড়ে উড়োজাহাজের সর্বোত্তম ব্যবহার ও পরিচালন দক্ষতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংস্থাটির বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা সীমিত। এর মধ্যে কয়েকটি উড়োজাহাজ নিয়মিত ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণে থাকায় আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনায় চাপ বেড়েছে। পাশাপাশি আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট পরিচালনায় অতিরিক্ত উড়োজাহাজ বরাদ্দের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এসব বাস্তবতায় তুলনামূলকভাবে কম চাহিদাসম্পন্ন বা অপারেশনালভাবে চ্যালেঞ্জিং কিছু রুট সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয় বিমান কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা–ম্যানচেস্টার রুটটি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলেও, বর্তমানে লন্ডন রুটে বিমানের নিয়মিত ও তুলনামূলক বেশি ফ্লাইট পরিচালিত হচ্ছে। সে কারণেই ম্যানচেস্টার রুটের যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ঢাকা–লন্ডন–ঢাকা রুট ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র জানান, যেসব যাত্রীর ইতোমধ্যে ঢাকা–ম্যানচেস্টার–ঢাকা রুটে টিকিট কাটা রয়েছে, তারা বিমানের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাবেন। এর মধ্যে ফ্লাইটের তারিখ পরিবর্তন, বিকল্প রুটে ভ্রমণের ব্যবস্থা কিংবা টিকিট রিফান্ডের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যাত্রীদের যেন কোনো ধরনের অযথা ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সেবা পাওয়ার জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা ও লন্ডনস্থ বিক্রয় অফিসে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি বিমানের কল সেন্টার নম্বর ১৩৬৩৬ অথবা +৮৮-০৯৬১০৯-১৩৬৩৬ নম্বরে ফোন করেও যাত্রীরা সহায়তা নিতে পারবেন। এছাড়া বিমান অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্টদের মাধ্যমেও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এভিয়েশন খাতের বিশ্লেষকদের মতে, উড়োজাহাজ সংকট ও রক্ষণাবেক্ষণজনিত সমস্যার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে একাধিক রুটে ফ্লাইট ব্যবস্থাপনায় পুনর্বিন্যাস করতে হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং বহরের সীমাবদ্ধতা—সব মিলিয়ে সংস্থাটির অপারেশনাল সিদ্ধান্তে প্রভাব পড়ছে। এ অবস্থায় লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে উড়োজাহাজের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করাই বিমানের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিমান কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা–ম্যানচেস্টার রুট স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এবং উড়োজাহাজের প্রাপ্যতা বাড়লে এই রুটে পুনরায় ফ্লাইট চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। তবে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনো জানানো হয়নি।
সাময়িক এই সিদ্ধান্তের কারণে যাত্রীদের যে অসুবিধা হচ্ছে, সে জন্য বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।
উল্লেখ্য, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যগামী রুটগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের যাতায়াতের চাপ তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে ঢাকা–ম্যানচেস্টার রুটে ফ্লাইট স্থগিতের সিদ্ধান্ত কিছু যাত্রীর জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য করবে। তবে বিকল্প হিসেবে লন্ডন রুটে নিয়মিত ফ্লাইট চালু থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি অচল হয়ে পড়বে না বলেই আশা করা হচ্ছে।
Leave a comment