Home জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ
জাতীয়রাজনীতি

নির্বাচন-পরবর্তী হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদে ১১ দলীয় জোটের বিক্ষোভ

Share
Share

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সারা দেশে নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা, ধর্ষণ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাটের অভিযোগ তুলে রাজধানীতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। নেতারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ‘মজলুম’ পরিচয়ে রাজনীতি করা একটি দল রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে ‘জালিমে’ পরিণত হয়েছে এবং বিতর্কিত নির্বাচনের ফল টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত সমাবেশে এসব বক্তব্য দেওয়া হয়। সমাবেশ শেষে পল্টন থেকে শাহবাগ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করেন জোটের নেতা–কর্মীরা।

জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, “২০২৪ সালের ডামি ভোটের পর ২০২৬ সালে হয়েছে ম্যানেজ ভোট। পুলিশ, প্রশাসন ও কমিশনকে ম্যানেজ করে ভোট ম্যানিপুলেশন করা হয়েছে। ভোটের পর বিরোধীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। কিন্তু মজলুমরা থামতে জানে না।”
বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরান অভিযোগ করেন, “ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পরিকল্পনা ছিল। দেশে এসেই সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এরপর শুরু হয়েছে হামলা–নিপীড়ন।”

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, টিআইবির প্রতিবেদনে সর্বস্তরে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চিত্র উঠে এসেছে। “এই কলঙ্ক মোচনে দ্রুত তদন্ত প্রয়োজন।”

এলডিপি নেতা ওমর ফারুক বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর আস্থা রেখে আমরা ভুল করেছি। তবু দেশের প্রায় অর্ধেক মানুষ ইনসাফের পক্ষে রায় দিয়েছে। ফ্যাসিস্ট পুনর্বাসন যেন না হয়—সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।”
ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা ছিল সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু তা হয়নি। এরপর আবার হামলা শুরু হয়েছে।”

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ও পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি শুধু সংসদ নির্বাচন নয়, গণভোটও হয়েছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো টালবাহানা চলবে না।”

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, “শান্তিপূর্ণ ভোটের পর টার্গেটকৃত প্রার্থীদের ঠেকাতে ডিপস্টেট ইঞ্জিনিয়ারিং হয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে।”

বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, “শুধু ভোট চুরি নয়—ডাকাতি হয়েছে। রাজপথেই এর জবাব দেওয়া হবে।” তিনি ওসমান হাদীর হত্যার বিচার এবং চাঁদাবাজি–দুর্নীতি বন্ধের দাবি জানান।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “সংসদে যাওয়ার আগেই রাজপথে নামতে হবে ভাবিনি। নারী সমাজের ওপর হামলা জঘন্য অপরাধ—সংসদে ও বাইরে লড়াই চলবে।”

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, “নির্বাচনের অনিয়ম ও পরবর্তী সহিংসতা মানুষের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। ফলাফল ঘোষণার অনিয়ম তদন্ত করতে হবে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার অজুহাতে জনরায় অমান্য করা হলে তার পরিণতি ভোগ করতে হবে।”

সমাবেশ থেকে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার তদন্ত, দ্রুত বিচার, জুলাই আন্দোলনের হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং ঘোষিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়। জোট নেতারা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ইতিহাসের এই দিনে ঘটে যাওয়া উল্লেখযোগ্য ঘটনা

আজ বুধবার ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ইংরেজি। ২৮ মাঘ, ১৪৩২ বাংলা। ২৩ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি। গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জী অনুসারে বছরের ৪২তম দিন। বছর শেষ হতে...

বিএনপির শীর্ষ নেতারা কে কোন কেন্দ্রে ভোট দেবেন

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়েছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও...

Related Articles

বিদায়ী ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা, ‘জুলাই সনদ’ অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন

দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন...

সংসদে যাচ্ছেন ১৩ জন শতকোটিপতি এমপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৩৬ জনের মধ্যে (৭৯.৪৬ শতাংশ কোটিপতি) এবং...

নিজ কার্যালয়ে বিদায়ী ভাষণ দিলেন প্রধান উপদেষ্টা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বে এককভাবে...

কে হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় ও সরকার গঠনের প্রাক্কালে এখন রাজনৈতিক...