নাটোরের বড়াইগ্রামে বসতবাড়ির ওপর দিয়ে যাওয়া বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে যুথী খাতুন নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) বিকেলে উপজেলার বনপাড়া পৌরসভার কালিকাপুর পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুথী ওই এলাকার জহুরুল ইসলামের মেয়ে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে বাড়িতে খেলাধুলার একপর্যায়ে একটি বিড়াল ধরতে যুথী ঘরের টিনের চালার ওপর ওঠে। সে সময় চালার ঠিক ওপর দিয়েই নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ-২ এর একটি বৈদ্যুতিক লাইন ঝুলে ছিল। খেলাচ্ছলে বিড়াল ধরতে গিয়ে যুথীর মাথা ওই তারে স্পর্শ করলে সে সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হয় এবং চালার ওপরেই লুটিয়ে পড়ে।
পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে বনপাড়ার একটি বেসরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র—আমেনা হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা যুথীকে মৃত ঘোষণা করেন। মু
নিহত শিশুর পরিবার এ ঘটনার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতিকে দায়ী করেছে। যুথীর দাদা জমির উদ্দীন অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের বসতবাড়ির ঠিক ওপর দিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক লাইন বিপজ্জনকভাবে ঝুলে ছিল। এটি যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে—এ কথা জানিয়ে আমরা আগেই বনপাড়া পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লিখিত আবেদন দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আজ সেই অবহেলার কারণেই আমার নাতনির প্রাণ গেল।”
স্থানীয় বাসিন্দারাও একই অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকার বসতবাড়িগুলোর ওপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বৈদ্যুতিক তার টানা রয়েছে। একাধিকবার মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ঘটনার খবর পেয়ে বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সুমন চন্দ্র দাস জানান, পুলিশ প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করেছে। তিনি বলেন, “পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” পুলিশ জানিয়েছে, প্রয়োজনে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা হবে।
Leave a comment