বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সৌদির সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদ উদযাপন করছেন। এ পর্যন্ত দেশের ১৯ জেলায় ঈদ উদযাপনের খবর পাওয়া গেছে।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে মাদারীপুরের ৩০ গ্রামের মানুষ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন। আজ রোববার সকাল ৯টায় মাদারীপুর সদর উপজেলার পাঁচখোলা ইউনিয়নের তাল্লুক গ্রামের তাল্লুক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের জামাত পড়ান চরকালিকাপুর ফরাজী বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান।
শরীয়তপুরের সুরেশ্বর দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা হযরত জান শরীফ শাহ্ সুরেশ্বরীর (রহ.) অনুসারীরা প্রায় দেড়শ বছর আগ থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন। তার অনুসারীরা ঈদুল ফিতর উদযাপন ও ঈদুল আযহা পালন করে আসছেন।
আজ রোববার ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার প্রায় ১৩ গ্রামে ঈদ উদযাপন হচ্ছে । বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের সহস্রাইল, দড়ি সহস্রাইল, ভুলবাড়িয়া, বারাংকুলা, বড়গাঁ, মাইটকুমড়া, গঙ্গানন্দপুর, রাখালতলী, কাটাগড়, কলিমাঝি, বন্ডপাশা, জয়দেবপুর ও দিঘীরপাড় গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ আগাম রোজা পালন শুরু করেন। ১৩টি গ্রামের আংশিক মানুষ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে একদিন আগে পবিত্র রোজা পালন শুরু করেন। তাই একদিন আগেই ওই গ্রামগুলোর অধিকাংশ লোকজন ঈদ উদযাপন করে থাকেন।
২৩টি গ্রামে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের হানাফি (রা.) মাযহাবের অনুসারীরা। আজ রোববার সকাল ৯টায় উপজেলার সনমান্দি ইউনিয়নের বাংলা বাজার এলাকায় গিরদান পশ্চিম পাড়া জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন দুই শতাধিক পরিবারের লোকজন। ঈদের জামাতে ইমামতি করেন মাওলানা ফারুক।
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী শতাধিক গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ পড়েছেন। সকাল ১০টায় মির্জাখীল দরবার শরীফের মাঠে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাতের ইমামতি করেন দরবারের বড় শাহজাদা ড.মাওলানা মোহাম্মদ মকছুদুর রহমান। জামাতে আনুমানিক এক হাজারের অধিক মুসল্লি একসাথে ঈদের নামাজ ও মোনাজাত আদায় করেছেন।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা, পটিয়া, কর্ণফুলী উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের আকিদার মুসলমানেরা ঈদ উদযাপন করছেন।এছাড়া চট্টগ্রামের হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়ার বেশ কয়েকটি গ্রামে মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারী রয়েছেন। তারাও আজ ঈদ উদযাপন করবেন
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার পৌরসভা এলাকার কৃষ্ণপুরে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে কৃষ্ণপুর মুসলিম জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। নামাজের ইমামতি করেন স্থানীয় ইমাম রহিম গাজী।
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে সাতক্ষীরার কয়েকটি গ্রামে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রোববার সকাল ৮টায় সদর উপজেলার ভাড়ুখালি আহলে সুন্না আল জামাত জামে মসজিদে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন মাওলানা হাববুর রহমান।
এছাড়া সাতক্ষীরা সদরের বাউখোলা, তালা উপজেলার জেঠুয়া, ইসলামকাঠি, শ্যামনগর উপজেলার গোয়াল চত্বরসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কয়েকটি গ্রামে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন মুসুল্লিরা। শিবগঞ্জ উপজেলার ৭৬ বিঘি আম বাগানে ঈদুল ফিতরের নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মোজাম্মেল হক।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি গ্রামের শতাধিক পরিবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন আজ। সকাল ৯টার দিকে উপজেলার মুন্সীপাড়ায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা ইমান আলী।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ও সাদুল্লাপুর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছে কয়েকটি গ্রামের কিছু মুসল্লি। একদিন আগেই ঈদ পালন করায় স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে জেলার সহিহ হাদিস সম্প্রদায়ের মুসল্লিরা উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের তালুক ঘোড়াবান্দা গ্রামের মধ্যপাড়ায় নামাজ আদায় করেন। নামাজে ইমামতি ও খোতবা পাঠ করেন হাফেজ মোহাম্মদ ওমর ফারুক।
চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে পালিত হচ্ছে ঈদুল ফিতর। আজ সকাল থেকে হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফসহ জেলার প্রায় অর্ধশত গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।ঈদের প্রথম জামায়াত দরবার শরিফ মাঠে সকাল ৯টায় অনষ্ঠিত হয়। এই জামায়াতে ঈমামতি করেন পীরজাদা মাওলানা মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, আগাম রোজা ও দুই ঈদ পালনের প্রবর্তক মাওলানা ইসহাক (রহ.)।
বরিশাল বিভাগের ৭৫টি মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এরা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাহবাদ জাহাগীরিয়া শাহসুফি দরবার শরিফের অনুসারী। প্রায় শতাধিক বছর ধরে এভাবে ঈদ উদযাপন করে আসছেন তারা।
একইভাবে মৌলভীবাজার ,দিনাজপুর ,ভোলা ,শরীয়তপুর ,লক্ষ্মীপুর ,টাঙ্গাইল ,রংপুর ,কুড়িগ্রাম ,পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বা পূর্ব রীতি অনুযায়ী সকালে ঈদের জামাতে অংশগ্রহণ করে, ঈদ আনন্দে মেতে উঠেছে।
Leave a comment