দক্ষিণ লেবাননে সামরিক তৎপরতা আরও জোরদার করে নতুন করে উচ্ছেদ নির্দেশ জারি করেছে ইসরায়েল, যা অঞ্চলটিতে উত্তেজনা ও মানবিক সংকটের আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র আভিচাই আদরায়ী দক্ষিণ লেবাননের খিরবেত সেলম, বেইত ইয়াহুন, সারাফান্দ এবং দেইর কানুন এন-নাহর গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে জাহরানি নদীর উত্তরে অবস্থান নিতে হবে।
ইসরায়েলি বাহিনীর দাবি, উল্লিখিত এলাকাগুলোতে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি চলছে। এর আগে উচ্ছেদ নির্দেশ সাধারণত লিতানি নদী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকলেও, এবার তা আরও উত্তরে জাহরানি নদী পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে—যা সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ দক্ষিণ লেবাননের ভেতরে আরও গভীরে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানবিক পরিস্থিতিও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি)-এর তথ্যমতে, ইসরায়েলের এই বিস্তৃত উচ্ছেদ নির্দেশের আওতায় এখন লেবাননের প্রায় ১,৪৭০ বর্গকিলোমিটার এলাকা—যা দেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৪ শতাংশ। এতে হাজার হাজার মানুষ নতুন করে বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছেন।
এদিকেজাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এ ধরনের গণ-উচ্ছেদকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সম্ভাব্য লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত আশ্রয়ের নিশ্চয়তার ওপর জোর দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দক্ষিণ লেবাননজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। চলমান উত্তেজনা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে তা বৃহত্তর আঞ্চলিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment