দক্ষিণ আমেরিকার দেশ সুরিনামের রাজধানী প্যারামারিবোতে এক ব্যক্তির ধারালো অস্ত্রের হামলায় পাঁচ শিশুসহ অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সুরিনাম পুলিশ ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এই মর্মান্তিক ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।
পুলিশের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রাজধানীর হাদজি ইডিং সোমিতাওয়েগ এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক ও পাঁচজন শিশুকে হত্যা করেন।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তির বয়স ৪৩ বছর এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন। নিহতদের মধ্যে তার নিজের চার সন্তানও রয়েছে। হামলার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি ফোনে তার স্ত্রীর সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়ান বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবরে বলা হয়, ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি প্রথমে নিজের ১১ বছর বয়সী মেয়েকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। এরপর প্রতিবেশী কয়েকজনের ওপরও হামলা চালান, যা দ্রুত প্রাণঘাতী রূপ নেয়।
ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হামলাকারী ব্যক্তি পুলিশ সদস্যদের ওপরও আক্রমণের চেষ্টা করেন। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালালে তিনি আহত হন। পরে তাকে আটক করে পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তদন্তের স্বার্থে এখনো তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস ঘটনার পেছনের প্রকৃত কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি জানতে বিস্তারিত তদন্ত চলছে।এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সুরিনামের প্রেসিডেন্ট জেনিফার গিয়ারলিংস-সাইমনস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন,“যে সময়ে পরিবার ও সমাজের একে অপরের পাশে থাকার কথা, ঠিক তখনই আমরা মানবিকতার এক ভয়াবহ চিত্র দেখলাম। একজন বাবা নিজের সন্তানদের পাশাপাশি প্রতিবেশীদের জীবনও কেড়ে নিয়েছে।” তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন ।
সূত্র: বিবিসি
Leave a comment