কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিন হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার রিয়াজ উদ্দিন রাজু ওরফে রাজু চৌধুরীকে (২০) নিজেদের হেফাজতে নেয়নি কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার সকালে তাঁকে নিতে কক্সবাজার গেলেও পরে তাঁকে সেখানকার থানায় রেখেই ফিরে আসে তদন্তকারী দল।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া বিভাগের মুখপাত্র মো. লুৎফর রহমান। তিনি বলেন, তাজমিন হত্যা মামলায় রাজুর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এ কারণে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়নি।
এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে তাজমিন হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে রাজুকে কক্সবাজারের কলাতলী বিচ এলাকা থেকে আটক করে কক্সবাজার সদর থানা-পুলিশ। পরদিন সকালে হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পবিত্র সরকারের নেতৃত্বে একটি দল তাঁকে নিতে কক্সবাজার যায়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রাজুকে কক্সবাজার সদর থানা থেকে বের করে ডিবি পুলিশের একটি গাড়িতে তোলা হয়। এ সময় পুলিশ সদস্যদের তাঁর সঙ্গে ছবি তুলতেও দেখা যায়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে সঙ্গে না নিয়েই কক্সবাজার সদর থানায় রেখে ফিরে যায় কুমিল্লা ডিবির দল।
রাজুকে হস্তান্তরের জন্য কুমিল্লা ডিবির পক্ষ থেকে কক্সবাজার জেলা পুলিশকে একটি চিঠিও দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে বলা হয়, তাজমিনের ব্যবহৃত মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করে ঘটনার প্রায় দুই দিন আগে তাঁর কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে। ওই সময় রাজুর সঙ্গে তাঁর দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছিল বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া ঘটনার আগে তাঁদের মধ্যে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়ার কথা জানানো হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তাজমিনের সঙ্গে রাজুর পূর্বপরিচয় ও সম্পর্কের ধরন, ঘটনার আগে তাঁদের যোগাযোগের কারণ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। মামলার বিষয়ে রাজুর কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য রয়েছে কি না, তা জানতে তাঁকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়ে কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) অহিদুর রহমান বলেন, ‘আমাকে ওসি প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন, তাঁরা আসামিকে নিয়ে গেছেন। পরে শুনলাম, তাঁরা নেননি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কী করা যায়, দেখছি।’
এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় ৫৪ ধারায় রাজুকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় কক্সবাজার সদর থানা-পুলিশ। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
Leave a comment