ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে পরাজিত হলেও সংসদের প্রস্তাবিত উচ্চকক্ষ (সিনেট)–এ জায়গা পেতে পারেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র সম্ভাব্য মনোনয়ন তালিকায় তার নাম সবচেয়ে আলোচিত।
ঢাকা-৮ আসনে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–র প্রার্থী হিসেবে। তবে এই আসনে জয়ী হন মির্জা আব্বাস, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–র প্রভাবশালী নেতা।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৮ আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে মির্জা আব্বাস ১০৮ কেন্দ্রে ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট এবং ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোটসহ মোট ৫৯ হাজার ৩৬৬ ভোট পান।
অন্যদিকে, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১০৮ কেন্দ্রে ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট এবং ২ হাজার ৫৫৫টি পোস্টাল ভোটসহ মোট ৫৪ হাজার ১২৭ ভোট পান। ফলে ব্যবধান তুলনামূলকভাবে কম থাকায় আসনটির ফলাফল রাজনৈতিকভাবে বেশ আলোচিত ছিল।
তবে উচ্চকক্ষের ক্ষেত্রে সমীকরণ ভিন্ন। তথ্য অনুযায়ী, গঠিতব্য সিনেটে মোট ১০০ জন সদস্য থাকবেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিভিন্ন দলের প্রাপ্ত মোট ভোটের শতকরা হারের ভিত্তিতে এসব সদস্য মনোনীত হবেন। এবারের নির্বাচনে ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়ে এনসিপি পেয়েছে ২২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩১ ভোট, যা মোট ভোটের ৩ দশমিক ২১ শতাংশ। এই অনুপাতে দলটির অন্তত তিনটি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য তিনটি আসনের ক্ষেত্রে আলোচ্য তালিকার শীর্ষে রয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো হয়নি, তবে দল ও জোট পর্যায়ে আলোচনা প্রায় চূড়ান্ত।
এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাদিয়া ফারজানা জানিয়েছেন, উচ্চকক্ষে কারা মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে দলের ভেতরে ও জোটসঙ্গীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা করা হবে।
দলীয় মহলে আরেকটি আলোচনা রয়েছে—যদি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে তিনি উচ্চকক্ষে যোগ নাও দিতে পারেন। সে ক্ষেত্রে এনসিপির কোটার অন্য কোনো নেতা মনোনয়ন পেতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পাটওয়ারীর সামনে দুটি কৌশলগত পথ খোলা রয়েছে—একটি জাতীয় পর্যায়ে উচ্চকক্ষে সক্রিয় ভূমিকা রাখা, অন্যটি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়া।
নির্বাচনি প্রচারণার সময় মির্জা আব্বাসকে ঘিরে বিভিন্ন মন্তব্যের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় ছিলেন পাটওয়ারী। ফলে ঢাকা-৮ আসনের লড়াই শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উচ্চকক্ষের সদস্যপদ পেলে পাটওয়ারী জাতীয় পর্যায়ে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে সংবিধান ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার নিয়ে যে আলোচনা চলছে, সেখানে এনসিপির অবস্থান তুলে ধরার একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে।
Leave a comment