ভারতকে ‘হেলহোল’ বা নরকতুল্য বলে আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ একে ‘অনুপযুক্ত’ ও ‘অজ্ঞতাপ্রসূত’ বলে অভিহিত করেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে কনজারভেটিভ পডকাস্ট উপস্থাপক মাইকেল স্যাভেজের একটি মন্তব্য শেয়ার করেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নীতির সমালোচনা করা হয়। ওই পোস্টে কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করা হয়, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অভিবাসীরা মার্কিন চাকরির বাজারে প্রভাব ফেলছে এবং প্রযুক্তি খাতে শ্বেতাঙ্গ আমেরিকানদের নিয়োগ কমছে। একই সঙ্গে ভারতীয় অভিবাসীদের ইংরেজি দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়, যা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
ট্রাম্পের পোস্টে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশু তাৎক্ষণিক নাগরিক হয়ে যায় এবং পরে তারা চীন বা ভারতসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পুরো পরিবারকে নিয়ে আসে—যেগুলোকে তিনি ‘হেলহোল’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, এই মন্তব্য স্পষ্টতই অজ্ঞতাপ্রসূত, অনুপযুক্ত ও রুচিহীন। তিনি আরও বলেন, এটি ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে না। দুই দেশের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ভারতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী হিন্দু আমেরিকান ফাউন্ডেশন ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘ঘৃণ্য ও বর্ণবাদী’ বলে আখ্যা দিয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, এমন মন্তব্য অভিবাসী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও বিভাজন আরও বাড়াতে পারে, বিশেষ করে বর্তমান সময়ে যখন বিদেশভীতি ও বর্ণবাদ ইতিমধ্যে উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি এবং প্রযুক্তি খাতে ভারতীয় কর্মীদের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী মাসে ভারত সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সফরটির লক্ষ্য দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা প্রশমিত করা হলেও, ট্রাম্পের মন্তব্য সেটিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
Leave a comment