বিগত সরকারের সময় নিজ নিজ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আলোচনায় থাকা আওয়ামী লীগের তিন নেতা দলীয় পরিচয় বদলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন টাঙ্গাইলে। সরকার পতনের পর আত্মগোপনে থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর নতুন রাজনৈতিক ব্যানারে তাঁরা আবারও প্রকাশ্যে এসে নির্বাচনী মাঠে নামেন।
এই তিন নেতা হলেন টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে অ্যাডভোকেট ইলিয়াস হোসেন মনি, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে তারেক শামস খান হিমু এবং একই আসনে ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। গত সোমবার তাঁরা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
তারেক শামস খান হিমু জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন বলে পরিচিত। ৫ আগস্টের পর আত্মগোপনে থাকার পর দেশে ফিরে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন তিনি। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে নাগরপুরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে হামলার অভিযোগে মামলা রয়েছে। যদিও তিনি দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগ তাঁর সঙ্গে অবিচার করেছে এবং তাঁকে দলীয় পদ থেকে সরানো হয়েছিল। তবে দলীয় একাধিক সূত্র বলছে, তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো পদচ্যুত করা হয়নি।
একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ব্যারিস্টার আশরাফুল ইসলাম। তিনি যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য বলে দাবি করেন। এর আগেও দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। এবার মনোনয়নপত্রের সঙ্গে চার হাজার ৯০১ জন ভোটারের স্বাক্ষর জমা দেওয়ার কথা জানান তিনি, যার বড় অংশ নারী ভোটার।
অন্যদিকে টাঙ্গাইল-১ আসনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন অ্যাডভোকেট ইলিয়াস হোসেন মনি। তিনি আগে আওয়ামী লীগ সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদের নেতা ছিলেন এবং সম্প্রতি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন। যদিও তিনি নিজেকে কখনো সক্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা বা পদধারী হিসেবে দাবি করেননি।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সরকার পরিবর্তনের পর টাঙ্গাইলে এই তিন নেতার দলীয় খোলস বদলে নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে এবং নির্বাচনী প্রতিযোগিতাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

Leave a comment