যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ–এর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ সংক্রান্ত বক্তব্য সরাসরি নাকচ করেছে ইরান। মঙ্গলবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পক্ষে নয় এবং এ নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের বিরুদ্ধে তার ধর্মীয় অবস্থানে অটল ছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধ—এমন ধর্মীয় নির্দেশনা (ফতোয়া) খামেনি সবসময় বহাল রেখেছিলেন।
বাকাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জেনেভায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনার সময় ইরানের মানুষের হতাহতের দৃশ্য তাদের সামনে ভেসে উঠছিল। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, “উইটকফের বক্তব্য ভিত্তিহীন।”
এর আগে উইটকফ দাবি করেন, জেনেভায় সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও জারেড কুশনার ইরানকে ১০ বছর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধিকরণ স্থগিত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবে বলা হয়, এই সময় জ্বালানি ব্যয় যুক্তরাষ্ট্র বহন করবে। তবে তেহরান এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে এবং সমৃদ্ধিকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান জানায়—এমনটাই দাবি করেন তিনি।
এদিকে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দেশটির নাগরিক ও চিকিৎসা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছে। ইরানের ত্রাণ সংস্থা Iran Red Crescent Society জানিয়েছে, চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন।
তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংঘাতের মধ্যে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন দাবি আসছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার মধ্যে সাম্প্রতিক সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। একদিকে ওয়াশিংটনের দাবি—তেহরান গোপনে সক্ষমতা বাড়াচ্ছে; অন্যদিকে ইরানের বক্তব্য—তাদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং আন্তর্জাতিক আইনসম্মত।
বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের পথ কতটা উন্মুক্ত থাকবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।
Leave a comment