এমরান হোসেন, জামালপুর প্রতিনিধি।জামালপুরে উৎপাদিত কাঁচা মরিচ আন্তর্জাতিক বাজারে জায়গা করে নিতে মালয়েশিয়ায় রপ্তানি শুরু হয়েছে। জেলার ৭টি উপজেলার চরাঞ্চল সহ বিস্তীর্ণ আবাদি জমিতে কাঁচা মরিচের চাষ হয়। চলতি মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়া, সারের দাম বৃদ্ধি এবং ডিজেল ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে আবাদ ও উৎপাদন কিছুটা কমেছে। তারপরও বাজারে দাম বেশি থাকায় লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা।
জেলায় উৎপাদিত হাইব্রিড জাতের কাঁচা মরিচ বিদেশে রপ্তানি শুরু হওয়ায় স্থানীয় বাজারের তুলনায় আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দাম পাচ্ছে কৃষকেরা। ফলে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৭ হাজার ৩৫০ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ এবং ৮৬ হাজার ৩৬২ টন মরিচ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মরিচ চাষ হয়েছে ৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর জমিতে। এ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৭৫ হেক্টর জমিতে মরিচ কম আবাদ হয়েছে। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা কমে যাবে।তআ
মাদারগঞ্জ উপজেলার গাবেরগ্রাম বাজারের ব্যবসায়ী মালেক মিয়া বলেন, প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বাজার থেকে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে মরিচ কিনে নিচ্ছি। স্থানীয় বাজার মূল্যের চেয়ে প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা বেশি দাম দেওয়া হচ্ছে। এসব মরিচ প্রতি কার্টুনে ৯ কেজি হিসেবে প্যাকেটজাত করে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় বাজারে যেখানে প্রতি কেজি মরিচের দাম ২৮ টাকা, সেখানে রপ্তানিযোগ্য মরিচের জন্য ৩৪ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ টন মরিচ রপ্তানি হয়েছ। এতে কৃষকরা সম্মিলিতভাবে প্রায় ২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করেছেন।
আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা মরিচ রপ্তানি কার্যক্রম কৃষকদের ভালো দাম নিশ্চিত করা সহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও ভূমিকা রাখছে। স্বাদ, ঝাল ও পুষ্টিগুণে অনন্য হওয়ায় মালয়েশিয়ায় কাঁচা মরিচের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। তাই রপ্তানির ক্ষেত্রে গুণগতমান বজায় রাখতে পারলে এ খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষক আজিজ বলেন, বৃষ্টি বেশি হওয়ার কারণে এবার ফলন কম হয়েছে। তবে বিদেশে রপ্তানির কারণে আমরা ভালো দাম পাচ্ছি, এটা আমাদের জন্য ভালো খবর।
আরেক কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সারের দাম বৃদ্ধির কারণে খরচ বেড়ে গেছে। তাই ফলন ভালো না হলে খরচ উঠানো কঠিন হয়ে যাবে। তবে দেশের বাইরে মরিচ রপ্তানি শুরু হওয়ায় দাম কিছুটা ভালো, আশা করছি অন্তত খরচটা উঠে আসবে।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোহাম্মদ আলম শরিফ খান জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি মাদারগঞ্জে উৎপাদিত কাঁচা মরিচ বিভিন্ন কোম্পানি ও রপ্তানিকারকের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে। তাই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মরিচের গুণগত মান নিশ্চিত এবং রপ্তানিযোগ্য করতে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করছে।
Leave a comment