রাজধানীর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর অষ্টম ইনডোর গেমসের ক্যারম টুর্নামেন্টে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদককে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা নেলীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
রোববার (৩ মে) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মো. রইছ উদ্দীন। তিনি বলেন, ইনডোর গেমসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে ঘটে যাওয়া ঘটনাটি অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর। এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া কমিটির আহ্বায়কের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
উপাচার্য জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এক শিক্ষার্থী অপর শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তুলেছেন, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ ধরনের আচরণের কোনো সুযোগ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইনডোর গেমস পরিচালনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ক্রীড়া উপকমিটির আহ্বায়ককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সদস্যসচিবকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘অষ্টম ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতা ২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ক্যারমের ফাইনাল খেলা চলাকালে নিয়মভঙ্গের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সাদিয়া সুলতানা নেলী ও জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার-এর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়লে পুরস্কার বিতরণী শেষে সাদিয়া তাকে থাপ্পড় দেন।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সাদিয়া অভিযোগ করেন, খেলায় স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে দুটি দলকে যৌথভাবে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টা করা হয়। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এসব অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a comment