
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় চুরি হওয়া গরু জবাই করে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা আহমেদ মধু ওরফে মধু মিয়ার বাড়িতে ইফতার পার্টির আয়োজনের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা। ইফতার মাহফিলে এলাকার প্রায় সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন বলে জানা গেছে।
গত ৬ রমজান উপজেলার পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়নের গলমুকাপন গ্রামের প্রবাসী এ বিএনপি নেতার নিজ বাড়িতে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর আগের দিন ৫ রমজান বিকেল ৩টার দিকে গলমুকাপন মাদরাসার পূর্ব পাশের মাঠ থেকে একই গ্রামের নাজমুল ইসলামের একটি ষাঁড় গরু চুরি হয়। গরু হারানোর পর প্রবাসী মধু মিয়ার বাড়ির কেয়ারটেকার সাঈদি নামের এক যুবক নাজমুল ইসলামকে বিভিন্ন স্থানে গরুর সন্ধানে পাঠিয়ে ভুল তথ্য দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওইদিন রাত ৮টার দিকে বিএনপি নেতা মধু মিয়ার বাড়িতে কেয়ারটেকার সাঈদি স্থানীয় কসাই দিয়ে চুরি হওয়া গরুটি জবাই করেন। পরে সারা রাত মাংস রান্না করে পরদিন ৬ রমজান বিকেলে এলাকার সহস্রাধিক মানুষের মধ্যে ইফতার পরিবেশন করা হয়। ইফতার পার্টিতে দাওয়াতি মেহমান হিসেবে উপস্থিত হয়ে গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম জবাইকৃত গরুর দড়ি দেখে সন্দেহ করেন যে, তার গরু দিয়েই ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে।
পরবর্তীতে বিষয়টি স্থানীয়দের অবগত করলে মধু মিয়ার বাড়িতে স্থাপিত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে, নাজমুল ইসলামের চুরি হওয়া গরু দিয়েই ইফতার প্রস্তুত করা হয়েছিল। এরপর ৮ রমজান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে গ্রামের মুরব্বিদের মধ্যস্থতায় সালিশের মাধ্যমে গরুর মালিককে ৭০ হাজার টাকা প্রদান করে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কেয়ারটেকার সাঈদিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার বাদ জুমা এ বিষয়ে জানতে চাইলে আহমেদ মধু ওরফে মধু মিয়ার পক্ষে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কয়েছ আহমদ চৌধুরী ও পশ্চিম পৈলনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য হুসাইন আহমদ জানান, “মধু মিয়া বর্তমানে ব্যস্ত আছেন এবং আজই লন্ডনে ফিরে যাবেন। বিষয়টি আমরা স্থানীয়ভাবে সমাধান করেছি। এ নিয়ে কোনো সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
গরুর মালিক নাজমুল ইসলাম বলেন, “আমার গরু চুরি হওয়ার পর মধু মিয়ার কেয়ারটেকার সাঈদি আমাকে বিভিন্ন স্থানে গরুর খোঁজে পাঠান। পরে তাদের বাড়িতে ইফতারে গিয়ে আমার গরুর দড়ি দেখে বিষয়টি বুঝতে পারি। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হওয়ার পর সালিশের মাধ্যমে আমাকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও জানান, এর আগেও গ্রামে একাধিকবার গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে।
এ বিষয়ে কেয়ারটেকার সাঈদির মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
Leave a comment