চীনের মধ্যাঞ্চলের একটি শহরে আতশবাজির দোকানে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে চলমান সরকারি ছুটির দ্বিতীয় দিনে বুধবার দুপুরে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম China Central Television (CCTV)।
স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে সিসিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে ঝেংজি শহরের একটি আতশবাজি ও পটকার দোকানে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই দোকানে মজুত আতশবাজি ও বিস্ফোরক সামগ্রীতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণহানি ঘটে এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ৫০ বর্গমিটার এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় দোকানটি প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে পাঠায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতের সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।
চীনে চন্দ্র নববর্ষ উদযাপনে আতশবাজি ও পটকা ফুটানো দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। প্রতি বছর এই সময় দেশজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করে। যদিও রাজধানী বেইজিংসহ বড় শহরগুলোতে পরিবেশ দূষণ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে আতশবাজি ফোটানোয় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, তবুও ছোট শহর ও গ্রামীণ অঞ্চলে এখনো ব্যাপকভাবে আতশবাজি ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।
চলতি বছর চন্দ্র নববর্ষ মঙ্গলবার উদযাপিত হলেও সরকারি ছুটি এখনো চলমান। এই ছুটির সময় আতশবাজির বিক্রি ও ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়, ফলে নিরাপত্তা ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের পর দোকানে মজুত বিস্ফোরক দ্রব্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় এই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে।
চীনের পূর্বাঞ্চলেও সম্প্রতি একই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত রোববার পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশের একটি আতশবাজির দোকানে বিস্ফোরণে আটজন নিহত এবং দুজন আহত হন। ওই ঘটনার পর দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সারাদেশে আতশবাজি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ও বিক্রয়কেন্দ্রে তদারকি জোরদারের নির্দেশ দেয়।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার ওপর জোর দিয়েছে। আতশবাজি সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, দোকানের বাইরে পরীক্ষামূলকভাবে আতশবাজি ফোটানো থেকে বিরত থাকা এবং ধূমপানসহ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ এড়িয়ে চলার বিষয়ে নাগরিকদের সতর্ক করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আতশবাজি ব্যবসায় নিরাপত্তা মান বজায় না থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনা মারাত্মক রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে উৎসবকালীন সময়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক দ্রব্য একত্রে সংরক্ষণ করলে ঝুঁকি বহুগুণে বেড়ে যায়।
সূত্র: এএফপি
Leave a comment