দেশজুড়ে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়ছে মারাত্মক ছোঁয়াচে রোগ স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া। প্রায় প্রতিটি পরিবারেই এক বা একাধিক সদস্য আক্রান্ত হচ্ছেন এ ত্বকের সংক্রমণে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক চিকিৎসা ও সচেতনতার অভাবে এটি এখন জাতীয় রোগে রূপ নিচ্ছে। বিশেষ করে জনবহুল এলাকায় এবং আবাসিক পরিবেশে এ রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
‘সারকোপটিস স্ক্যাবি’ নামের অণুজীব দ্বারা সৃষ্ট এ রোগের মূল লক্ষণ হলো অস্বাভাবিক চুলকানি ও পানিযুক্ত দানা ওঠা। আক্রান্ত ব্যক্তির স্পর্শ কিংবা তাঁর ব্যবহৃত জামাকাপড়, বিছানা ও বালিশ ব্যবহারের মাধ্যমেও অন্যদের শরীরে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে। গরম ও আর্দ্র পরিবেশে জীবাণুটি দ্রুত বংশবিস্তার করে বলে এ সময় সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, স্ক্যাবিস সাধারণত আঙুলের ফাঁক, ত্বকের ভাঁজ, বুকে, পিঠে, বগলে, যৌনাঙ্গে বা নাভির চারপাশে দেখা দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে মাথার তালু, মুখ, হাতের তালু ও পায়ের পাতার নিচেও দানা উঠতে পারে। রাতে চুলকানি বেড়ে যায়, যা রোগীর অস্বস্তি আরও বাড়ায়। আক্রান্ত স্থানে ইনফেকশন হলে ব্যথা ও পুঁজও হতে পারে।
স্কুল, মাদ্রাসা, মেস, হোস্টেল কিংবা শ্রমিক আবাসনের মতো জায়গায় স্ক্যাবিস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত হলে পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের সবাইকে একত্রে চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। আক্রান্তদের ব্যবহৃত জামাকাপড়, বিছানার চাদর, বালিশের কভার ও আন্ডারগার্মেন্টস গরম পানিতে ধুয়ে রোদে শুকানো উচিত। আক্রান্তের জিনিসপত্র অন্য কেউ ব্যবহার না করাই নিরাপদ।
চিকিৎসকরা সতর্ক করেছেন, ভুল পরামর্শে ওষুধ ব্যবহার করলে জটিলতা বাড়তে পারে। পারমিথিন ৫ শতাংশ ক্রিম বা লোশন, মনোসালফিরাম সলিউশন এবং ইনফেকশন হলে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা ভিন্ন হতে পারে। তাই অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
এ রোগ নিয়ে একটি ভুল ধারণা ছড়িয়েছে যে কোভিড-১৯ টিকা নেওয়ার ফলে স্ক্যাবিস হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এর প্রমাণ মেলেনি।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা, পরিচ্ছন্নতা এবং জনসচেতনতার মাধ্যমেই স্ক্যাবিস প্রতিরোধ সম্ভব। অন্যথায় সংক্রমণ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
Leave a comment