গোপনে গোয়েন্দা তথ্য পাচারের অভিযোগে অন্তত ৫০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইরান। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইসরায়েল এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল ইরান ইন্টারন্যাশনালকে গোপন তথ্য সরবরাহ করছিল।
রোববার (১৫ মার্চ) দেশটির পুলিশ প্রধান আহমাদরেজা রাদান এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন সরাসরি ইরান ইন্টারন্যাশনালকে তথ্য দেওয়ার অভিযোগে আটক হয়েছেন।
তার দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকটি আন্ডারগ্রাউন্ড সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যও রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার পরিকল্পনায় জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ইরান সরকার ২০২২ সালে ইরান ইন্টারন্যাশনালকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। তেহরানের অভিযোগ, লন্ডনভিত্তিক এই চ্যানেলটি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে উসকানি দেওয়ার পাশাপাশি ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালায়।
এরই মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ঘিরে তেহরান ও ওয়াশিংটন-এর মধ্যে কয়েক দফা সংলাপও অনুষ্ঠিত হয়। তবে ফেব্রুয়ারির শেষদিকে আলোচনার কোনো সমঝোতা ছাড়াই সমাপ্তি ঘটে।
এর পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়তে থাকে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের জেরে পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়িয়েছে এবং এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ব্যাপক ধরপাকড় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলতে পারে।
Leave a comment