মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় বিমানবন্দরের রাডার সিস্টেমের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এতে কোনো যাত্রী বা বিমানবন্দর কর্মী আহত হননি।
দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের মুখপাত্র আবদুল্লাহ আল-রাজি এক বিবৃতিতে বলেন, বিমানবন্দর লক্ষ্য করে একাধিক ড্রোন পাঠানো হয়েছিল। এসব ড্রোনের মধ্যে কয়েকটি বিমানবন্দরের রাডার অবকাঠামোতে আঘাত হানে।
তার ভাষায়, “কয়েকটি ড্রোন কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং এর ফলে রাডার সিস্টেমের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে।এই হামলার ঘটনা এমন এক সময় ঘটল, যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে এবং একাধিক দেশ নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
আঞ্চলিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে তারা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নতুন হামলার একটি ধাপ শুরু করেছে।আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এটি তাদের ‘৫০তম হামলা’, যার লক্ষ্য ছিল অঞ্চলে অবস্থিত বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি।
প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা ও ফুজাইরাহ, বাহরাইনের জুফায়রা ও মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের অবস্থান, কুয়েতের আলি আল-সালেম ঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যদিও এসব হামলার সবগুলোর ক্ষয়ক্ষতি বা প্রভাব সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি যে দ্রুত অবনতির দিকে যাচ্ছে তা স্পষ্ট।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো বর্তমানে বাড়তি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। কারণ আঞ্চলিক সংঘাত তীব্র হলে এসব স্থাপনাই প্রতিশোধমূলক হামলার প্রধান লক্ষ্য হয়ে ওঠে।
কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার ঘটনাটি বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকির দিকটিও সামনে এনেছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে রাডার ও যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর হামলা হলে তা আকাশপথে চলাচলের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করতে পারে।
Leave a comment