বাংলাদেশকে আরও বিনিয়োগবান্ধব, প্রতিযোগিতামূলক ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনীতিতে রূপান্তর করাই সরকারের লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার রাজধানীতে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: এসএমই খাতের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এমএসএমই) খাতকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়লে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারিত হবে এবং মানুষের ক্রয়ক্ষমতাসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবাহ শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী দেশে প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার অধিকাংশই এমএসএমই খাতভুক্ত। জাতীয় জিডিপিতে এ খাতের অবদান প্রায় ৩৪ শতাংশ।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, আগামী বাজেটে এমএসএমই খাতের জন্য প্রায় ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিভিন্ন প্রণোদনা ও সহায়তা কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের মধ্যে ৫ হাজার কোটি টাকা সিএমএসএমই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা সহজ শর্তে স্বল্পসুদে ঋণ হিসেবে বিতরণ করা হবে। পাশাপাশি স্টার্টআপ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ৫০০ কোটি টাকা এবং সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়েছে।
এলডিসি উত্তরণ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকই পূরণ করেছে। তবে উত্তরণকে টেকসই করতে আরও প্রস্তুতির প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে সরকার উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ইআরএফের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা সভাপতিত্ব করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (করনীতি) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী এবং এসএমই ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী।
Leave a comment