জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নবগঠিত চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। রাতেই সংবাদ সম্মেলন করে একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন ২২ জন নেতাকর্মী। তাদের অভিযোগ, ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পদ বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, নারী কেলেঙ্কারি ও মামলা বাণিজ্যের মতো গুরুতর অভিযোগও তোলেন তারা। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে এনসিপি’র ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে ১৬৮ সদস্যের চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটি প্রকাশ করা হয়। এতে মীর মোহাম্মদ শোয়াইবকে আহ্বায়ক এবং আরিফ মঈনুদ্দিনকে সদস্যসচিব করা হয়। এ ঘোষণার দেড় ঘণ্টার মাথায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে সংবাদ সম্মেলন করে পদত্যাগের ঘোষণা দেন কয়েকজন নেতা। শুক্রবার সকালে গণমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে মোট ২২ নেতার পদত্যাগের তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন কমিটির জ্যেষ্ঠ সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম, সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক হুজ্জাতুল ইসলাম সাঈদ, ডা. মাহতাব উদ্দিন আহমদ ও দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ রাফসান জানি রিয়াজ।
পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, অর্থের বিনিময়ে ‘পকেট কমিটি’ গঠন করে চট্টগ্রাম মহানগরে এনসিপি’র রাজনীতি ধ্বংসের অপচেষ্টা চলছে। তারা দাবি করেন, কমিটিতে অনেক ত্যাগী ও সক্রিয় নেতাকর্মীকে মূল্যায়ন করা হয়নি। বিপরীতে নতুন ও অযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়েছে। দপ্তর সম্পাদক রাফসান জানি রিয়াজ বলেন, দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ ও ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। আমরা এই কমিটির পুনর্মূল্যায়ন চাই। বিষয়টি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে তুলে ধরা হবে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, দলের কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, টাকার বিনিময়ে পদ বাণিজ্য, মামলা বাণিজ্য এবং নারী কেলেঙ্কারির মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে হতাশ হয়ে তারা গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগকারী নেতাদের মধ্যে রয়েছেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ এহছানুল হক ও কামরুল কায়েস; যুগ্ম সদস্যসচিব মো. সোহরাব চৌধুরী, হামিদুল ইসলাম, বদিউল আলম, মোহাম্মদ সরোয়ার আলম ও ইকবাল মাসুদ; সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাদমানুর রহমান চৌধুরী, সূফি মোহাম্মদ মিনহাজ, মোহাম্মদ কারিওল মাওলা, মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, মোশাররফ হোসেন রবিন, নুরুল আবছার সাইবান ও মোস্তফা রাশেদ আজগরসহ আরও অনেকে। এ বিষয়ে নবগঠিত কমিটির আহ্বায়ক মীর মোহাম্মদ শোয়াইব বলেন, বড় কমিটিতে সবার প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হয়নি।
কেউ নিজের পছন্দের পদ পেলেও তার পছন্দের ব্যক্তিরা হয়তো বাদ পড়েছেন। এ কারণে মনোমালিন্য তৈরি হয়েছে। তবে তাদের জন্য দলের দরজা খোলা রয়েছে। সদস্যসচিব আরিফ মঈনুদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, দলের নীতির বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক নয়। আশা করি, পদত্যাগকারী নেতারা ভুল বুঝতে পেরে আবার দলে ফিরে আসবেন।
Leave a comment