রাজধানীর কদমতলী এলাকায় ভাঙারি ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন (৪০)–কে কুপিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। গভীর রাতে সংঘটিত এ নৃশংস ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ বলছে, হত্যার কারণ উদঘাটন ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কদমতলীর কুদার বাজার এলাকার আদর্শ সড়কে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, হঠাৎ করেই কয়েকজন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র নিয়ে শাহাবুদ্দিনের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে বিষয়টি তার স্বজনদের জানান। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে রাত সাড়ে ১১টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নিহতের বড় ভাই মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, শাহাবুদ্দিন কদমতলী-জুরাইন এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ভাঙারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। রাতে ফোন পেয়ে জানতে পারেন, কুদার বাজার এলাকায় তার ভাইকে চাপাতি দিয়ে দুর্বৃত্তরা কুপিয়েছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও বলেন, “কারা বা কী কারণে আমার ভাইকে এভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তা এখনো জানতে পারিনি। পুলিশ তদন্ত করলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করছি।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শাহাবুদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে বোঝা যায় হামলাটি ছিল অত্যন্ত নৃশংস। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় কদমতলী থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান।
পুলিশ সূত্র জানায়, প্রাথমিকভাবে এটি পূর্বশত্রুতা, ব্যবসায়িক বিরোধ অথবা ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে ঘটে থাকতে পারে—এমন কয়েকটি সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের কাজ চলছে।
Leave a comment