
স্টাফ রিপোর্টার | সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা লোকমান হোসেন সংবাদ সম্মেলনে ভূমিখেকো চক্র ও রাজনৈতিক হয়রানির বিরুদ্ধে প্রতিকার চেয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজেএ) সিলেট বিভাগীয় কমিটির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তুলে ধরেন।
লিখিত বক্তব্যে লোকমান হোসেন জানান, নগরীর শেখঘাট এলাকার শাহানা বেগম শানু এবং তার ছেলে রায়হান ওরফে ‘কানা রায়হান’ দীর্ঘদিন ধরে তার ক্রয়কৃত সম্পত্তি দখল করে আছেন। এই দখল বজায় রাখতে তারা ১৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় লোকমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এমনকি তার স্ত্রীর মোবাইলে পিস্তলের ছবি পাঠিয়ে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, শাহানা বেগম ও তার পরিবার আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও বর্তমানে তারা নব্য রাজনৈতিক দল ‘এনসিপি’র ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সিলেট মহানগর এনসিপির আহ্বায়ক আব্দুর রহমান আফজলের প্রত্যক্ষ মদদে তারা লোকমান হোসেনকে বারবার জেল খাটিয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর এনসিপির প্রভাব খাটিয়ে সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে ঢুকে নারী ও পুরুষদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায় এবং শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বর্তমানে তার পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
লোকমান হোসেন অভিযোগ করেন, গত ১৬ জানুয়ারি কাজিরবাজারস্থ তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। অবাক করার বিষয় হলো, কোতোয়ালি থানার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রায়হান ও রিপন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে এসে তাকে ‘আওয়ামী লীগের লোক’ তকমা দিয়ে মব সৃষ্টি করে গ্রেফতার করায়। এছাড়া গত ১০ জানুয়ারি এয়ারপোর্ট থানার একটি সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি উপস্থিত না থাকলেও তাকে ৫নং আসামি করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, তৎকালীন ওসি ও এসআই মোটা অঙ্কের বিনিময়ে তাকে কারাগারে থাকা অবস্থায় ওই মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ দেখান।
সংবাদ সম্মেলনে শাহানা বেগম শানু ও তার ছেলের বিরুদ্ধে জালিয়াতির একাধিক তথ্য তুলে ধরা হয়। লোকমান দাবি করেন, শানু পঞ্চম শ্রেণি পাস হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে অষ্টম শ্রেণি পাস দাবি করে নির্বাচনী হলফনামায় তথ্য গোপন করেছেন। তার ছেলে রেদওয়ান ইসলাম ভুয়া এইচএসসি সার্টিফিকেট দিয়ে সিসিকের ওয়ার্ড সচিবের চাকরি করছেন এবং সুস্থ হওয়া সত্ত্বেও ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী’ সেজে আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন।
ইতিপূর্বে চারবার সংবাদ সম্মেলন ও জিডি করেও প্রশাসনের আশানুরূপ সহযোগিতা পাননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, “প্রশাসনের ভেতর লুকিয়ে থাকা কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে এই চক্রটি আমাকে ধ্বংস করার মিশনে নেমেছে। আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি এই ভূমিখেকো ও চাঁদাবাজ চক্রের হাত থেকে মুক্তি এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Leave a comment