ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকি দিলেও পরে তিনি জানান, চলমান “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা” বিবেচনায় পরিকল্পিত হামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।
তবে এর মধ্যেই ইরান সম্ভাব্য নতুন হামলার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। দেশটি সতর্ক করে বলছে, তাদের ওপর হামলা হলে প্রতিবেশী দেশ ও বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এর “চরম মূল্য” দিতে হবে।
ইরানের কৌশলগত আশঙ্কা ও প্রস্তুতি
জার্মান ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড সিকিউরিটি অ্যাফেয়ার্সের ইরানবিষয়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ হামিদরেজা আজিজির মতে, নতুন সংঘাত শুরু হলে তা হতে পারে “স্বল্পস্থায়ী কিন্তু অত্যন্ত তীব্র”।
তার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য যুদ্ধে ইরান প্রতিদিন কয়েক ডজন থেকে কয়েক শ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে পারে, যার লক্ষ্য হবে প্রতিপক্ষের সামরিক হিসাব-নিকাশ ও প্রতিরক্ষা কাঠামোকে চাপে ফেলা।
তিনি আরও বলেন, ইরান সম্ভবত জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার ঝুঁকি বিবেচনা করছে, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো—যেমন সৌদি আরব, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে—যুদ্ধে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে ফেলতে পারে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি
বিশ্লেষকদের মতে, তেল উৎপাদন ও রপ্তানির কেন্দ্রগুলোতে হামলা হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে সক্ষম হবে ইরান।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবকে ঘিরে ইরানঘনিষ্ঠ কিছু বিশ্লেষকের কড়া মন্তব্য নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বক্তব্য অনেক সময় রাজনৈতিক চাপ ও কৌশলগত বার্তা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
সামুদ্রিক পথ ও বৈশ্বিক প্রভাব
ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলো—বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে—প্রভাব বিস্তারের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
বিশ্ব বাণিজ্যের বড় অংশ এই সমুদ্রপথগুলোর ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে তা সরাসরি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এক ধরনের চাপা উত্তেজনার মধ্যে রয়েছে। আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয়নি, বরং উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান থেকে কৌশলগত চাপ তৈরি করে যাচ্ছে।
Leave a comment