ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের দুই শীর্ষ সামরিক ও নীতি-নির্ধারক নিহতের ২৪ ঘণ্টা পার হতে না হতেই মার্কিন নৌবহরে পাল্টা আঘাত হানার দাবি করেছে ইরান। বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী বিমানবাহী রণতরি ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ লক্ষ্য করে বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আধা-সামরিক সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ-এ প্রকাশিত ইরানের সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা পর্ষদের প্রধান আলী লারিজানি এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলাইমানির ওপর চালানো ‘জঘন্য হত্যাকাণ্ডের’ দাঁতভাঙা জবাব দিতেই এই হামলা। ইরান দাবি করেছে, তাদের উন্নত প্রযুক্তির ‘কোস্ট-টু-সি’ (উপকূল-থেকে-সমুদ্র) ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিখুঁতভাবে রণতরিটিকে লক্ষ্যবস্তু করে।
তেহরানের দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রের তোপে টিকতে না পেরে রণতরিটি সংশ্লিষ্ট অঞ্চল ছেড়ে পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে এই হামলায় রণতরিটির কাঠামোগত কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তারা।
ইরানের এই চাঞ্চল্যকর দাবির বিপরীতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (পেন্টাগন) কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় মার্কিন নৌবাহিনী দ্রুত বিবৃতি দিলেও এবারের নীরবতা নিয়ে আন্তর্জাতিক সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র জবাবে ইরান এখন তাদের ‘সর্বাত্মক প্রতিরোধ’ কৌশল গ্রহণ করেছে। বর্তমানে এই অঞ্চলের মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিগুলো ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং রণতরি লক্ষ্য করে এই ধরনের হামলা বিশ্বজুড়ে জ্বালানি নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
Leave a comment