যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান, যার অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাই। শনিবারের এই হামলার পর শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন, ধোঁয়া ও বিস্ফোরণের শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যা দীর্ঘদিন ধরে ‘নিরাপদ বিনিয়োগের মরুদ্যান’ হিসেবে পরিচিত এই নগরীর ভাবমূর্তিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে।
আঞ্চলিক বাণিজ্য, পর্যটন ও বিনিয়োগের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই শহরটি বহু আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক চুক্তি, আর্থিক লেনদেন ও বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত। তবে আকাশপথে নেমে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাতে শহরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আগুন লাগার ঘটনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে। বিশেষ করে ফেয়ারমন্ট হোটেল প্রাঙ্গণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রাথমিকভাবে এটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসাবশেষ থেকে আগুন লাগার ঘটনা বলা হলেও, কিছু ভিডিওতে সরাসরি ড্রোন হামলার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এদিকে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফা এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর আল মাকতুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্লাইট চলাচল স্থগিত ঘোষণা করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, করোনা-পরবর্তী সময়ে ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজার, দূরবর্তী কাজের সুযোগ এবং নামমাত্র কর কাঠামোর কারণে দুবাই বিপুল পরিমাণ বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু বর্তমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নিলে ছোট-বড় সব বিনিয়োগকারীই এখানে নতুন করে বিনিয়োগের আগে পুনর্বিবেচনায় বাধ্য হবেন। এতে আবাসন খাতসহ সামগ্রিক আর্থিক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের হামলার মুখে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গেও উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। আবু ধাবির নিকটবর্তী মার্কিন বাহিনীর আল ধাফরা বিমান ঘাঁটি এবং বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে কাতারেও হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হামলা উপসাগরীয় দেশগুলোর রাজনৈতিক অবস্থানকে নতুন করে প্রভাবিত করতে পারে এবং আঞ্চলিক রাজতন্ত্রগুলোকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত সামরিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তবে অন্যদিকে, ইরানের কৌশলগত হিসাব হতে পারে যে উপসাগরীয় দেশগুলো ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লে তারাই যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক কেন্দ্র দুবাই।

Leave a comment