ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছোট ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন—এমন দাবি করেছেন জাতিসংঘের সাবেক অস্ত্র পরিদর্শক স্কট রিটার।
রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম আরটি (RT)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই দাবি করেন। পরে পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসলামাবাদ রিটারের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিষয়টি প্রকাশ করে।
তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে এবং একে “ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিমূলক” বলে উল্লেখ করেছে।
স্কট রিটারের দাবি অনুযায়ী, ইরানের ছোড়া একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূমধ্যসাগর উপকূলীয় শহর সিজারিয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত বাসভবনে আঘাত হানে।
তিনি বলেন, ওই সময় বাড়ির ভেতরে অবস্থান করছিলেন নেতানিয়াহুর ছোট ভাই ইদ্দো নেতানিয়াহু এবং হামলার সময় তিনি নিহত হন। রিটার আরও দাবি করেন, ইরানের হামলার লক্ষ্য ছিল ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে আঘাত করা।
একই সাক্ষাৎকারে স্কট রিটার বলেন, এই হামলায় ইসরায়েলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের বাসভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বেন-গভিরের বাড়িতে আগুন ধরে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন।
তবে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই অভিযোগও অস্বীকার করেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, বেন-গভির কোনো হামলায় আহত হননি; বরং একটি সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন। স্কট রিটার এই ব্যাখ্যাকে “ঘটনার প্রকৃত সত্য আড়াল করার চেষ্টা” বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্কট রিটারের দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন এবং স্বাভাবিকভাবে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছেন।
ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকার জন্য জনসাধারণকে অনুরোধ করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন বা ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেলেও, ইদ্দো নেতানিয়াহুর মৃত্যুর বিষয়টি এখন পর্যন্ত কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা বা স্বাধীন সূত্র নিশ্চিত করেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাতময় পরিস্থিতিতে তথ্যযুদ্ধ ও প্রচারণার কারণে এমন বিতর্কিত দাবি প্রায়ই সামনে আসে, যা যাচাই ছাড়া নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনা ও কমান্ড সেন্টার লক্ষ্য করে উন্নত ‘খাইবার শেকান’ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।
গত কয়েক দিনে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আঞ্চলিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের নিরাপত্তা সংকট তৈরি করতে পারে।
Leave a comment