ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসে সামরিক সদস্যসহ বহু মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া অন্তত ২৩ জন মেরিন সেনা নিহত হয়েছেন। তবে একই ঘটনায় দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট মৃতের সংখ্যা ২০—যার মধ্যে কতজন সামরিক সদস্য রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
নৌবাহিনীর মুখপাত্র ফার্স্ট অ্যাডমিরাল টুঙ্গগুল বলেন, শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সামরিক মহড়ার সময় সেনারা ভূমিধসে আটকা পড়েন। পশ্চিম জাভার বান্দুং বারাত জেলার পাসির লাঙ্গু গ্রামে দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত গ্রামটি রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (বিএনপিবি) জানিয়েছে, ভূমিধসে এখন পর্যন্ত ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে এবং অন্তত ৪২ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। তবে নিহতদের মধ্যে সামরিক ও বেসামরিক সদস্যের পৃথক হিসাব স্পষ্ট করা হয়নি।
উদ্ধার তৎপরতায় বড় আকারের অভিযান চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৮০০ উদ্ধারকর্মী, সেনা ও পুলিশ সদস্য উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছেন। ভারী যন্ত্রপাতি হিসেবে অন্তত নয়টি এক্সকাভেটর ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে কাদামাটিতে ঢেকে থাকা এলাকা, বৃষ্টিপাত এবং ভেজা ঢালের ঝুঁকি উদ্ধার কার্যক্রমকে জটিল করে তুলছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের সন্ধানে উদ্ধারকর্মীরা ধাপে ধাপে এলাকা খনন করছেন।
ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে অন্তত ৬৮৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন করে খাদ্য, পানি ও জরুরি চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শিশু ও প্রবীণদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত হলে মাটি আলগা হয়ে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে। পশ্চিম জাভার অনেক এলাকায় ঢালু ভূমি ও ঘনবসতি থাকায় এমন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি থাকে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অনিয়ন্ত্রিত ভূমি ব্যবহার ও পাহাড় কেটে বসতি স্থাপন—এসব বিষয়কেও ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপ বর্ষা মৌসুমে নিয়মিত বন্যা ও ভূমিধসের মুখোমুখি হয়। অতীতেও একই ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘূর্ণিঝড়, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ধস দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a comment