এক অসহনীয় বিষণ্ণতা আর ধর্মীয় আবেগের সংমিশ্রণে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করছে ফিলিস্তিনিরা। দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের ঐতিহাসিক আল-আকসা মসজিদে নামাজ আদায়ে ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর বাধার মুখে পড়েছেন মুসল্লিরা। অন্যদিকে, অব্যাহত হামলায় বিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় ধ্বংসস্তূপের মাঝেই ঈদের জামাত আদায় করেছেন বাস্তুচ্যুত মানুষ।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈদের দিন ভোর থেকেই আল-আকসা অভিমুখে মুসল্লিদের ঢল নামে। তবে দখলদার বাহিনী দামাস্কাস গেটসহ প্রধান প্রবেশপথগুলোতে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করে। শত শত ফিলিস্তিনিকে মসজিদে প্রবেশ করতে না দিলে তারা বাধ্য হয়ে বাইরের সড়ক ও প্রবেশদ্বারের সামনেই ঈদের নামাজ আদায় করেন। জেরুজালেম গভর্নরেট এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, এটি ফিলিস্তিনিদের ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, আল-আকসাকে তার ইসলামি ও ফিলিস্তিনি পরিচয় থেকে বিচ্ছিন্ন করতেই টানা ২১ দিন ধরে মসজিদটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
গাজার চিত্র ছিল আরও ভয়াবহ ও হৃদয়বিদারক। উপত্যকাজুড়ে কোনো উল্লাস নেই, আছে কেবল স্বজন হারানোর আহাজারি। গাজা সরকারের দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধে উপত্যকার ১,২৪০টি মসজিদের মধ্যে ১,১০০টিরও বেশি মসজিদ সম্পূর্ণ ধ্বংস বা আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে গাজাবাসীকে ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের চত্বর, খোলা জায়গা কিংবা অস্থায়ী তাঁবুর সামনেই ঈদের জামাত পড়তে দেখা গেছে।
মানবেতর জীবনযাপনের মধ্যেও ফিলিস্তিনিরা তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ধরে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর ক্ষীণ চেষ্টা থাকলেও গাজার প্রতিটি পরিবারে রয়েছে শোকের ছায়া। আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতিকে চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। একদিকে পবিত্র স্থানে ইবাদতে বাধা এবং অন্যদিকে ধ্বংসস্তূপের ওপর ঈদ—এই বৈপরীত্য ফিলিস্তিনিদের চলমান সংগ্রামের এক করুণ প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Leave a comment