ব্ল্যাকমেইল, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার আলোচিত ‘জুলাইযোদ্ধা’ তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এদিন সকালে তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে আদালতে হাজির করা হলে তার কিছু সমর্থক আদালত প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে ছিল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখে।
মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের জুলাই–আগস্টে সংঘটিত আন্দোলনের সময় রাজধানীর গুলশান ও বাড্ডা এলাকায় সংঘটিত একাধিক হত্যা মামলায় নাম জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধাপে ধাপে অর্থ আদায় করে। অভিযোগ অনুযায়ী,
ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া, পুলিশি হয়রানি, গ্রেপ্তার করানো এবং পরে ‘মীমাংসা’ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করা হতো।
তদন্তে উঠে এসেছে, এই প্রতারণা চক্রের মূল সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করতেন তাহরিমা জান্নাত সুরভী। তিনি গাজীপুরের ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি কলেজের একজন শিক্ষার্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিও, বিতর্কিত কর্মকাণ্ড এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে লাইভ প্রচারের কারণে তিনি আগে থেকেই পরিচিত হয়ে ওঠেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, নিজের এই ‘ভাইরাল পরিচিতি’ এবং জুলাই আন্দোলনের সময়কার সক্রিয়তার পরিচয় ব্যবহার করে তাহরিমা বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার ভান করতেন। এরপর সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের ভয় দেখিয়ে বলা হতো—চাইলেই তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা বা গুরুতর অভিযোগে জড়ানো সম্ভব। এই ভয়কে পুঁজি করে অর্থ আদায় করা হতো।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি গুলশানের এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জুলাই আন্দোলনের মামলার ভয় দেখিয়ে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠে আসে। ওই অভিযোগের তদন্তে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তে দেখা যায়, এই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন তাহরিমা জান্নাত সুরভী।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে টঙ্গীর নিজ বাসা থেকে তাহরিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেন, মামলাটি অত্যন্ত গুরুতর। এখানে কেবল প্রতারণা নয়, বরং ভয়ভীতি প্রদর্শন, মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধের আলামত রয়েছে। এসব অভিযোগের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, অর্থ কোথায় গেছে এবং কীভাবে এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছে—তা জানতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করেন এবং দাবি করেন, তাহরিমাকে রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
Leave a comment