মাদক-সন্ত্রাসবাদ ও কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রের মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার দেশের প্রেসিডেন্ট। আমাকে জোর করে এখানে আনা হয়েছে।’
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ সময় রাত ১১টার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ম্যানহাটন ফেডারেল আদালতে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে হাজির করা হয়। আদালতে সিলিয়া ফ্লোরেসও মাদক সংক্রান্ত সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন। খবর-জাজিরা
শুনানিকালে বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টাইন মাদুরোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পড়ে শোনান এবং তার বক্তব্য জানতে চান। জবাবে মাদুরো বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত কোনো অভিযোগই সত্য নয়। শুনানি শেষে বিচারক আগামী ১৭ মার্চ পরবর্তী হাজিরার দিন নির্ধারণ করেন।
এর আগে সোমবার কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মাদুরোকে আদালতে আনা হয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ)-এর সদস্যরা একটি হেলিকপ্টার থেকে তাকে নামিয়ে আদালতের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় তার হাত বাঁধা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, ইউএস কোড ৮৪১ ধারায় ৫ কিলোগ্রামের বেশি কোকেন বিতরণ বা বিতরণের ষড়যন্ত্রে দোষী সাব্যস্ত হলে ন্যূনতম ১০ বছর থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।
এ ছাড়া কর্নেল ল’ স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, ইউএস কোড ৯৬০-এর আওতায় মাদক-সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ প্রমাণিত হলে, ধারা ৮৪১-এর ন্যূনতম শাস্তির অন্তত দ্বিগুণ সাজা হতে পারে, যা সর্বনিম্ন ২০ বছর কারাদণ্ডে রূপ নিতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মাদুরোসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদ, কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্র এবং অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযোগে মামলা দায়ের করে। সে সময় অভিযোগপত্রে মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল না।
ওই অভিযোগপত্রে মাদুরোর বিরুদ্ধে কলম্বিয়ার গেরিলা সংগঠন ফার্কের সঙ্গে সহযোগিতা এবং ‘কার্টেল দে লস সোলেস’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়।
প্রসঙ্গত, শনিবার ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে পরিচালিত এক আকস্মিক অভিযানে নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স। একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে এভাবে আটক করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এসব সমালোচনা উপেক্ষা করে লাতিন আমেরিকার আরও কয়েকটি দেশে সামরিক অভিযান চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
Leave a comment