যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার ঐতিহাসিক শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির জবাবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কোনো হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।
রোববার (১২ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে দেওয়া এক ভাষণে গালিবাফ বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় ইরান সদিচ্ছার প্রমাণ দিয়েছিল, যার ফলে ইতিবাচক অগ্রগতিও হয়েছিল। কিন্তু ডনাল্ড ট্রাম্পের নতুন হুমকি ইরানি জাতির ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে না।” ট্রাম্পের সরাসরি যুদ্ধের হুমকির জবাবে তিনি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনি যদি লড়াই করেন, আমরাও লড়াই করব। আর যদি যুক্তি নিয়ে এগিয়ে আসেন, তবে আমরাও যুক্তি দিয়েই মোকাবিলা করব।”
এর আগে গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। তবে গত শনিবার ইসলামাবাদের বৈঠকে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় পরিস্থিতি ঘোলাটে হয়ে ওঠে। দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা করেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী ইরানের তেলবাহী জাহাজসহ সব বাণিজ্যিক যানে অবরোধ আরোপ করবে মার্কিন বাহিনী। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “হয় সব জাহাজ নিরাপদে যাতায়াত করবে, নয়তো একটিও নয়। খুব দ্রুতই আমরা এই নৌপথ পরিষ্কার করে দেব।”
ট্রাম্পের এই ‘অবরোধ’ নীতির জবাবে গালিবাফ অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলেন, মার্কিন প্রশাসন যদি আবারও ইরানের দৃঢ়তা পরীক্ষা করতে চায়, তবে তাদের আরও বড় শিক্ষা দেওয়ার জন্য তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট হরমুজ প্রণালী নিয়ে দুই পরাশক্তির এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
Leave a comment