জুলাই আন্দোলনের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ অভিযুক্ত সাবেক দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় পাঠ করেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (ASI) আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র। এ ছাড়া অপরাধে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক রবিউল ইসলাম নয়ন এবং উপপরিদর্শক (SI) বিভূতি ভূষণ রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
শহীদ আবু সাঈদ হত্যার পর দেশজুড়ে যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে এই মামলার বিচার কার্যক্রম ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গত বছরের ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর ৬ আগস্ট অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হয় আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের বন্দুকের মুখে বুক পেতে দিয়ে সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন আবু সাঈদ। তার শাহাদাতের পর আন্দোলন এক নতুন মাত্রা লাভ করে এবং শেষ পর্যন্ত তা একটি সফল গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই রায়ের মাধ্যমে শহীদ আবু সাঈদের রক্তের ঋণ আংশিকভাবে শোধ হলো এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি নজিরবিহীন উদাহরণ হয়ে থাকবে।
Leave a comment