ইংরেজি নতুন বছর উদ্যাপনকে ঘিরে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো থেকে বিরত থাকতে অন্তর্বর্তী সরকার আহ্বান জানালেও তা উপেক্ষা করেছে রাজধানীর একটি বড় অংশের বাসিন্দা। মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকেই ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ির ছাদে আতশবাজি, ফানুস ও পটকা ফোটানোর মাধ্যমে নববর্ষকে স্বাগত জানানো হয়।
সরকারের আহ্বান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এভাবে উৎসব পালনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা ও সমালোচনা। নতুন বছরের শুরুতেই এ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান জানান দেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা শাকিব খান। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক স্টোরিতে তিনি আতশবাজির নেতিবাচক প্রভাবের কথা তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
স্টোরিতে শাকিব খান লেখেন,“আতশবাজির শব্দ সবার জন্য আনন্দের নয়। এই বিকট শব্দে ভীত হয় শিশু, অসুস্থ মানুষ ও নিরীহ প্রাণীরা। শব্দ নয়, আসুন আমরা ভালোবাসা ছড়াই।”তার এই বার্তাটি অল্প সময়ের মধ্যেই ভক্ত ও অনুসারীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
উল্লেখ্য, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে ঘোষিত রাষ্ট্রীয় শোক এবং সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) নববর্ষ উপলক্ষে সব ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো নিষিদ্ধ করেছিল। তবে সেই নিষেধাজ্ঞা কার্যত মানা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মধ্যরাতে বিকট শব্দে আতশবাজি ফোটানোর ফলে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে ঘুমন্ত পাখিরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ উচ্চ শব্দে দিশেহারা হয়ে অনেক পাখিকে রাতের আঁধারে উড়তে দেখা যায়। পার্ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও বড় গাছপালায় থাকা পাখিদের স্বাভাবিক পরিবেশ এতে মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখিদের শ্রবণশক্তি মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সংবেদনশীল। আকস্মিক ও উচ্চমাত্রার শব্দ তাদের স্নায়ুতন্ত্রে তীব্র চাপ সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে আতশবাজির বিকট শব্দে পাখিরা ভয় পেয়ে বাসা ছেড়ে উড়ে যায়, ফলে ডিম নষ্ট হয় এবং ছানা হারানোর ঘটনা ঘটে। এমনকি অতিরিক্ত মানসিক চাপ থেকে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে পাখির মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে বলে জানান তারা।
শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের ক্ষেত্রেও আতশবাজির শব্দ একইভাবে ক্ষতিকর। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের শব্দ হঠাৎ করে রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে, আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পারে এবং মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকিব খানের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়ে অনেকেই মন্তব্য করেছেন, উৎসবের আনন্দ অন্যের ক্ষতির কারণ হওয়া উচিত নয়। সচেতন মহলের মতে, নতুন বছর উদ্যাপনের আনন্দ শব্দ ও আলোঝলমলে আতশবাজিতে নয়, বরং সহনশীলতা, মানবিকতা ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণে প্রকাশ পাওয়া উচিত।
Leave a comment