নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা-এর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলাউদ্দিনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক অশ্লীল ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে মঙ্গলবার রাতেই তাকে ওএসডি (বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) করা হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, সম্প্রতি ৯ থেকে ১৮ মিনিট দৈর্ঘ্যের কয়েকটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোকে কেন্দ্র করে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। অভিযোগ উঠেছে, এসব ভিডিওতে সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও মো. আলাউদ্দিন দাবি করেছেন, ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। তিনি স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, পূর্বের কর্মস্থলের কিছু বিরোধের জেরে কেউ অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং এ বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
এই ঘটনার প্রভাব নোয়াখালীর বাইরে সুনামগঞ্জেও ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ, আলাউদ্দিন এর আগে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা ও শাল্লা উপজেলা-এ সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখানে তার বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও রূঢ় আচরণের অভিযোগ নতুন করে সামনে আসছে।
স্থানীয় কয়েকজন অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করেছেন তিনি। শাল্লা উপজেলার আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃদুল দাস দাবি করেন, আলাউদ্দিন প্রভাব খাটিয়ে তার রেকর্ডভুক্ত জমির ওপর নির্মিত একটি ওয়ার্কশপ একাধিকবার ভেঙে দেন, যাতে তার বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতি হয়। পরে মাপজোখে সেখানে সরকারি জমি না থাকার বিষয়টি উঠে আসে।
এছাড়া ২০২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে এক ঘটনায় জুয়েল মিয়া নামে এক ট্রলি চালককে মারধরের অভিযোগও রয়েছে, যেখানে তার গুরুতর আঘাত লাগে। এ ঘটনায় আরেক শ্রমিকও আহত হন বলে জানা গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নামে সাধারণ ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের ওপর অতিরিক্ত জরিমানা আরোপ এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি।
এদিকে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার সকালে তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করে জেলা সদরের উদ্দেশে রওনা দেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
নোয়াখালীর জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে অবগত হয়েছেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
Leave a comment