Home আন্তর্জাতিক ট্রাম্পের নির্বাচনি পরাজয়ে অস্বস্তিতে নেতানিয়াহু, চাপে ইসরায়েল
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পের নির্বাচনি পরাজয়ে অস্বস্তিতে নেতানিয়াহু, চাপে ইসরায়েল

Share
Share

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার রিপাবলিকান পার্টির বড় পরাজয়ের পর অস্বস্তিতে পড়েছেন ইসরায়েলের ডানপন্থি রাজনীতিকেরা। ওয়াশিংটনে নিজেদের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত ট্রাম্পের এমন পরাজয়কে ইসরায়েলের রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘদিন ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন। তবে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে। ট্রাম্প আগে বিদেশি যুদ্ধে জড়ানোর বিরোধিতা করলেও শেষ পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেন। এতে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে দুই নেতা পরস্পরের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানান। নিজ নিজ দেশের ভোটারদেরও মিত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল তাদের সেই রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি জোট পেয়েছে মাত্র ৫৩টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের চেয়ে যা আটটি কম। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই ডেমোক্র্যাটদের কাছে হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। এমনকি ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাস ও কানসাসেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা।

যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের অধ্যাপক ও ‘ক্রিটিক্যাল ইস্যুজ পোল’-এর পরিচালক শিবলি তালহামি এই ফলাফলকে রাজনৈতিক সুনামি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এটি শুধু একটি ইস্যুতে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ নয়; বরং ট্রাম্পবাদের প্রতি বৃহত্তর প্রত্যাখ্যানের প্রতিফলন।

তালহামি বলেন, পররাষ্ট্রনীতি, বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন নাগরিকেরা এসব বিষয়কে নিজেদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের প্রধান কূটনৈতিক ও সামরিক মিত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করে আসছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আনা বিভিন্ন প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবছর দেশটিকে অন্তত ৩৮০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। এই সহায়তার মাধ্যমে অত্যাধুনিক মার্কিন অস্ত্র সংগ্রহ করে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সক্ষমতা বজায় রাখছে ইসরায়েল।

তবে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের এই সমর্থন এখন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের আগে পরিচালিত তালহামির এক জনমত জরিপে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে ব্যয়বহুল ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়ানোর ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে প্রভাবিত করেছে ইসরায়েল।

তালহামির মতে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এখন অনেক মার্কিন ভোটারের কাছে সম্পদের পরিবর্তে বোঝা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইসরায়েলের সঙ্গে ইরান যুদ্ধের সংশ্লিষ্টতাও ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।

ট্রাম্পের পরাজয়ে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক চাপ

মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় মেনে নিলেও ইরান যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। জ্বালানির দাম বৃদ্ধির কারণে যুদ্ধ তার নির্বাচনি পরাজয়ের পেছনে আংশিক ভূমিকা রেখেছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি। অন্যদিকে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর ভোট বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

ইসরায়েলের বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ মনে করেন, নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর বিভিন্ন পদক্ষেপ তাকে রাজনৈতিকভাবে আরও চাপে ফেলেছে। আরব দলগুলোর নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেতকে নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টিও সমালোচনার মুখে পড়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের দিন এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ইসরায়েলকে বছরে ৪০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়া বন্ধের বিষয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সমঝোতা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ইসরায়েলি সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড্যানিয়েল লেভি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে যে গভীর রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটছে, তার ব্যাপ্তি বুঝতে ইসরায়েলের মধ্যে একধরনের অস্বীকারের প্রবণতা রয়েছে।

তার মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইসরায়েল সরাসরি প্রধান ইস্যু না হলেও ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ইরান যুদ্ধে ইসরায়েলের ভূমিকা নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে আরেকটি দীর্ঘস্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলার বিষয়টি ভোটারদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে।

নিউইয়র্কে ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কনসাল জেনারেল অ্যালন পিনকাসের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্পর্ক এখন গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় এবং ইরান যুদ্ধের

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধী অমানুষদের কারখানা: ফজলুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘স্বাধীনতাবিরোধী অমানুষদের কারখানা’ বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক...

শাহজালালে ইমিগ্রেশন সিন্ডিকেট: কোড বললেই ছাড়, আটকে যাচ্ছেন প্রকৃত পর্যটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে প্রকৃত ও সাধারণ পর্যটকদের নানা অজুহাতে আটকে হয়রানি করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে যোগাযোগ...

Related Articles

বিপুল অর্থ ঢেলেও লাভ হয়নি, মাস্কের সমর্থিত অধিকাংশ প্রার্থীই পরাজিত

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও বর্তমান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথকে...

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেলেন বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না...

ইরানে হামলা চালিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উচিত হবে না মার্কিন জনমত উপেক্ষা করা: গালিবাফ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দেশটির সাধারণ ভোটাররা যুদ্ধের বিরুদ্ধে তাঁদের স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে...

নিউইয়র্ক আইনসভায় নতুন ইতিহাস: প্রথম ফিলিস্তিনি ও হিজাবি নারী সিনেটর

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। নিউইয়র্ক...

;