রাশিয়ার আগ্রাসী নীতি অব্যাহত থাকলে ইউরোপের কোনো সীমান্ত বা সরকারই নিরাপদ থাকবে না বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে বৈধতা দেওয়ার জন্য মস্কোর দেওয়া যুক্তিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিকে দুর্বল করছে বলেও মন্তব্য করেছে দেশটি।
বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা সংস্থার (ওএসসিই) এক বৈঠকে এসব কথা বলেন সংস্থাটিতে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নিল হল্যান্ড।
বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উপস্থিত ছিলেন না। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের পক্ষে দেওয়া বিভিন্ন যুক্তি খণ্ডন করেন নিল হল্যান্ড।
বৈঠকে তিনি বলেন, ‘কোনো রাষ্ট্র নিজের জন্য যে নিয়ম দাবি করে, কিন্তু অন্যের ক্ষেত্রে তা মেনে নিতে রাজি নয়, সেটি কোনো নীতি নয়। এটি বিশেষ সুবিধা আদায়ের দাবি। আন্তর্জাতিক আইন এ ধরনের বিশেষ সুবিধার স্বীকৃতি দেয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার প্রতিটি যুক্তি সমানভাবে প্রয়োগ করা হলে আমাদের অঞ্চলের কোনো সীমান্তই নিরাপদ থাকবে না। শক্তিশালী কোনো প্রতিবেশীর সিদ্ধান্তের বাইরে কোনো সরকারও নিরাপদ থাকবে না।’
যুক্তরাজ্যের এই বক্তব্যের পেছনে রয়েছে ইউক্রেনে বেসামরিক নাগরিকদের হতাহতের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা। জাতিসংঘের মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ মিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে অন্তত ৩২৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ২ হাজার ১০০ জনের বেশি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ৮৫ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ৩০ দিনের মধ্যে ২২ দিনই বেসামরিক নাগরিক নিহত বা আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় শহরটিতে রাশিয়ার বিমান হামলা আরও তীব্র হয়।
বৈঠকে নিল হল্যান্ড বলেন, ‘এই পরিসংখ্যানের পেছনে রয়েছে মস্কোর নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত। রাশিয়া কখনোই এই পরিষদে তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে একটি ধারাবাহিক ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। সম্ভবত তারা জানে, তাদের যুক্তিগুলোর কোনো ভিত্তি নেই। এর পরিবর্তে তারা একের পর এক অজুহাত দাঁড় করিয়েছে এবং প্রতিটিকেই নীতিগত অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করেছে।’
রাশিয়ার পক্ষ থেকে সীমান্তের বাইরে বসবাসকারী রুশ ভাষাভাষী বা রুশ সংস্কৃতির মানুষের সুরক্ষার অজুহাতে সামরিক শক্তি প্রয়োগের অধিকার দাবি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশগুলোর নিরাপত্তার স্বার্থে ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবির বিষয়ে রাশিয়ার অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নিল হল্যান্ড বলেন, রাশিয়া কি তার প্রতিবেশী দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ বিবেচনায় নিজেদের ভূখণ্ড ছেড়ে দিতে রাজি হবে? রাশিয়া দাবি করে, তারা আগাম আত্মরক্ষার স্বার্থে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু কেউ রাশিয়াকে আক্রমণের পরিকল্পনা করেনি। কোনো রাষ্ট্রের একতরফাভাবে অনুভূত হুমকির ভিত্তিতে আগে হামলা চালানোর অধিকার স্বীকার করা হলে প্রতিটি দেশই প্রতিবেশীর বাস্তব কিংবা কাল্পনিক আশঙ্কার মুখে ঝুঁকিতে পড়বে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধি রাশিয়ার কাছে ১৯৭৫ সালের হেলসিঙ্কি চূড়ান্ত আইনের বিষয়ে ব্যাখ্যা চান। ওই চুক্তিতে রাষ্ট্রগুলোর সীমান্তের অলঙ্ঘনীয়তা এবং বিরোধ শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
নিল হল্যান্ড বলেন, সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে অন্য দেশের সীমান্ত পরিবর্তনের চেষ্টা ওই চুক্তির অঙ্গীকারের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা রাশিয়াকে ব্যাখ্যা করতে হবে। অন্যথায় দেশটি কোন কোন নীতি থেকে সরে এসেছে এবং অন্য রাষ্ট্রগুলোও একইভাবে এসব নীতি পরিত্যাগ করতে পারে কি না, তা স্পষ্ট করতে হবে।
Leave a comment