পাকিস্তানের মুলতানে ১৪ বছর বয়সী এক এতিম শিশুকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া তৌকির পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশের দাবি, তাঁকে নিয়ে যাওয়ার পথে দুই সহযোগী হামলা চালালে পাল্টা গুলি ছোড়ে পুলিশ। তবে ঘটনাটিকে সাজানো ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান।
গত বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোরে পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুরে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট কাউন্টার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টের (সিসিডি) গুলিতে তৌকির নিহত হন।
পুলিশের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, ১৪ বছর বয়সী ওই এতিম শিশু তৌকিরের বাড়িতে কাজ করত। একপর্যায়ে তৌকিরকে না জানিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়ি নিয়ে শিশুটিকে ধাওয়া করেন। পরে তাকে থামানোর চেষ্টা করতে গিয়ে গাড়ি দিয়ে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তানজুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত সোমবার তৌকিরকে তাঁর বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত বুধবার মুলতানের একটি আদালত তাঁকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন।
পুলিশের দাবি, তৌকিরকে নিয়ে যাওয়ার সময় মোটরসাইকেলে করে তাঁর দুই সহযোগী পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালান। এ সময় পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরে তৌকিরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে এ ঘটনাকে পুলিশের সাজানো ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১৪ বছর বয়সী শিশুটি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছে। এ সময় তৌকির ও আরেক ব্যক্তি এসে তাকে গাড়ি দিয়ে চাপা দেন। তবে ঘটনার পর এক ভিডিও বক্তব্যে তৌকির দাবি করেছিলেন, তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে শিশুটিকে গাড়িচাপা দেননি।
সূত্র: ডন
Leave a comment