‘আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এই এলাকার সংসদ সদস্য হিসেবে আমি লজ্জিত ও অনুতপ্ত। আমাদের জাতির ইতিহাসে ঘটে যাওয়া অন্যতম লজ্জাজনক ও কলঙ্কজনক ঘটনাগুলোর মধ্যে এটি একটি।’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এভাবেই ক্ষোভ, দুঃখ ও লজ্জা প্রকাশ করেন কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ম্যাজিক প্যারাডাইস পার্কের পেছনের সানন্দা এলাকায় অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের স্থানটি পরিদর্শন করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে যেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ সম্পন্ন হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন মানুষ হিসেবে এত ছোট একটি শিশুর এমন মর্মান্তিক পরিণতি সহ্য করা অত্যন্ত কঠিন। অপ্রতিমের শোকার্ত মায়ের সামনে গিয়ে কী জবাব দেবেন—এমন প্রশ্নও তোলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা কি আমাদের নিষ্পাপ মাসুম বাচ্চাদের রক্ষা করতে পারছি না?’
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘সামান্য একটি আইফোনের লোভে একজন মানুষকে এভাবে হত্যা করা হতে পারে, তা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে! একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি গভীরভাবে লজ্জিত।’
কিশোরদের অপরাধের পথ থেকে ফেরাতে এবং গ্যাং কালচার থেকে রক্ষা করতে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমার মেয়েরা পর্যন্ত বিদেশ থেকে ফোন করে কান্নাকাটি করে বলছে, বাবা, নিজ এলাকায় এটি কী ঘটে গেল!’
Leave a comment