সৌদি আরবের মক্কার পবিত্র গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম) ও মদিনার মসজিদে নববীর সম্মানিত ইমামরা মক্কাকে লক্ষ্য করে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ড্রোন হামলা প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শুক্রবারের জুমার খুতবায় দুই পবিত্র মসজিদের সুরক্ষাকে সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’ উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র স্থানগুলোকে লক্ষ্য করার দুঃসাহস করা একটি “গুরুতর অপরাধ” এবং এটি ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবমাননা।
মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলাহ তাঁর খুতবায় বলেন, মুসলমানদের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা এবং সাধারণ ও নিরপরাধ মানুষের জীবন হুমকির মুখে ফেলার সাথে ইসলামের কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে না। তিনি হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তারা নিজেদের ধ্বংসাত্মক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে আড়াল করতে ধর্মীয় স্লোগানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ধরনের ষড়যন্ত্র বা হামলার চেষ্টা সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে মদিনার মসজিদে নববীতে দেওয়া খুতবায় শেখ আবদুল মোহসেন আল-কাসিম বলেন, মক্কা ও মদিনার মতো পবিত্র ভূমিতে হামলা চালানোর পাঁতারা স্পষ্টতই চরমপন্থী সন্ত্রাসী মানসিকতার প্রতিফলন। এ ধরনের গোষ্ঠীগুলো সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং নির্বিচারে রক্তপাতকে বৈধ মনে করে। তবে সৌদি আরব বিশ্বের মুসলমানদের কিবলা হিসেবে সর্বদা অটল থাকবে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের কোনো পরিকল্পনাই একে দুর্বল করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশ করার আগেই একটি হুথি ড্রোন শনাক্ত করে ভূপাতিত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইয়েমেনে বৈধ সরকারকে সমর্থনকারী সামরিক জোটের মতে, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুথিদের এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের হামলার চেষ্টা। এর আগে ২০১৭ সালের জুলাই মাসেও মক্কাকে লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল গোষ্ঠীটি।
Leave a comment