ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে অন্তত ৩৭ জন ফিলিস্তিনি সাংবাদিক বন্দি রয়েছেন বলে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি প্রিজনার সোসাইটি (পিপিএস)। সংগঠনটি জোর দাবি করে জানিয়েছে, বন্দি সাংবাদিকদের মধ্যে ১৯ জনকে কোনো প্রকার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন কিংবা নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি না করেই দীর্ঘদিনের জন্য ‘প্রশাসনিক আটকাদেশের’ অধীনে বন্দি করে রাখা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে পিপিএস জানায়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর চরম নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। পেশাগত দায়িত্ব পালন ও বাকস্বাধীনতার অধিকার চর্চা করায় সাংবাদিকদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার, দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, নির্জন কারাবাস ও নানা হয়রানিমূলক আইনি মামলার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক গ্রেফতারকৃতদের উদাহরণ তুলে ধরে জানানো হয়, সম্প্রতি পশ্চিম তীরের বেথলেহেমে নিজ নিজ বাসভবনে গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে মুআথ আম্মারনা ও সাবরি জিবরিন নামে দুই সাংবাদিককে তুলে নিয়ে যায় ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে আম্মারনা পেশাগত কারণে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো আটক হলেন। এ ছাড়া সাংবাদিক ও লেখক মাহমুদ ফাতাফতাকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘উসকানি দেওয়ার’ মনগড়া অভিযোগে ৪৮ মাসের দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, বর্তমানে ইসরায়েলে আটক মোট ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের প্রায় ৫১ শতাংশই বিনা বিচারে প্রশাসনিক আটকে বন্দি আছেন। আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকার রক্ষা বিষয়ক সংস্থা ‘কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস’ (সিপিজে)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ১১৬ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীকে সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদে আটকের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। তবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, সাংবাদিকতার কারণে নয়, বরং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহেই তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।
Leave a comment