২০২৬ সালের মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় ফলাফলের এক আশঙ্কাজনক চিত্র ফুটে উঠেছে। এবার বোর্ডের অধীনস্থ মোট ২২৬টি মাদরাসার একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। বিগত ২০২৫ সালে শতভাগ ফেল করা মাদরাসার সংখ্যা ছিল ৮৬টি, যা চলতি বছরে এসে প্রায় তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশকালে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন এসব তথ্য জানান।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী, এবার দাখিল পরীক্ষায় মোট ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৯৭ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে, যার মধ্যে ছাত্র ৮১ হাজার ৭৬৫ জন এবং ছাত্রী ৮৩ হাজার ৩২ জন। সার্বিকভাবে দাখিলে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৫.৪৯ শতাংশ। এবারও পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ছাত্রীরা; যেখানে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৯.৮৯ শতাংশ, সেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৫১.৬৪ শতাংশ।
উল্লেখ্য, এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার জন্য সব মিলিয়ে ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছিল। এর মধ্যে মাদরাসা বোর্ডের অধীন ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন, সাধারণ নয়টি বোর্ডের অধীন ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন এবং কারিগরি বোর্ডের অধীন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হয়। গত ২১ এপ্রিল পরীক্ষা শুরু হয়ে ২৪ মে দাখিলের লিখিত অংশ শেষ হয়। দীর্ঘ প্রথা অনুযায়ী ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় ২০ জুলাইয়ের প্রায় তিন সপ্তাহ পর চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হলো।
প্রকাশিত ফলাফলে সংক্ষুব্ধ বা অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামী ১১ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে পুনর্নিরীক্ষণের (খাতা পুনঃমূল্যায়ন) জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন। পুনর্নিরীক্ষণ পদ্ধতির বিস্তারিত দিকনির্দেশনা ইতোমধ্যে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
Leave a comment