রাজধানীর কলাবাগান থানার কাঁঠালবাগান এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে এক মর্মান্তিক ও নৃশংস জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। পাষণ্ড জামাতার এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন গর্ভধারিণী মা ও তাঁর তরুণী মেয়ে। অভিযুক্ত ঘাতক স্বামী হৃদয় ওরফে শিপনকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।
নিহতরা হলেন-ফারজানা আক্তার রাত্রি (২১) এবং তাঁর মা ফিরোজা বেগম (৪০)। এ ঘটনায় ঘাতক শিপনকে ঘটনার পরপরই শিশু সন্তানসহ পালানোর চেষ্টা করার সময় পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিক জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার তীব্র বাদানুবাদের জেরে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়। বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মেয়েকে রক্ষা করতে মা ফিরোজা বেগম এগিয়ে এলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে শিপন। মুহূর্তের মধ্যে সে ধারালো ছুরি দিয়ে প্রথমে স্ত্রী রাত্রিকে এবং পরে শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে।
ছুরিকাঘাতের পরপরই ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মারা যান স্ত্রী রাত্রি। অন্যদিকে, গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় শাশুড়ি ফিরোজা বেগমকে দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতদের পারিবারিক সূত্র জানায়, গত শুক্রবার শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে রাত্রির সঙ্গে শিপনের ঝগড়া হয়। সেই বিরোধের জেরে শনিবার রাতে তাঁরা ঢাকায় ফিরলে রোববার সকালেই পাষণ্ড শিপন এই নৃশংাস কাণ্ড ঘটায়। পরে নিজদের এক বছরের শিশু সন্তানকে নিয়ে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, লাশের শরীরে একাধিক ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় কলাবাগান থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
Leave a comment