বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচের আগে রাজনৈতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডকে ‘দখলদার জলদস্যু’ আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পোস্ট করেছেন আর্জেন্টিনার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল।
এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমরা দখলদার জলদস্যুদের বিপক্ষে খেলতে নামছি। এটি শুধু আরেকটি ফুটবল ম্যাচ নয়।’
দক্ষিণ আটলান্টিকের ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ—যা আর্জেন্টিনায় ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত—নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সার্বভৌমত্ব–বিরোধের প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আরেকটি পোস্টে ভিয়াররুয়েল লেখেন, ‘আমি রাজনৈতিকভাবে সঠিক হওয়ার চেষ্টা করব না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ মানেই বাড়তি কিছু। এটি মালভিনাস, এটি দিয়েগো, এটি লিওনেল মেসির শেষ বিশ্বকাপ অভিযান এবং আগ্রাসনকারীদের থামানোর লড়াই।’
১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের সঙ্গে ভিয়াররুয়েলের ব্যক্তিগত সম্পর্কও রয়েছে। ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার হয়ে লড়েছিলেন তাঁর বাবা। ৭৪ দিনব্যাপী সেই যুদ্ধে যুক্তরাজয়ের বিজয়ের মধ্য দিয়ে সংঘাতের অবসান হলেও দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে দুই দেশের বিরোধ এখনো চলমান। যুদ্ধে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন ও ২৫৫ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হন।
তবে ভাইস প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন আর্জেন্টিনা দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘এটি শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ। রাজনীতি বা ইতিহাসকে এর সঙ্গে মিশিয়ে ফেলা উচিত নয়।’
এদিকে সেমিফাইনালকে ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আয়োজকরা। আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্টেওলিভা জানিয়েছেন, আটলান্টায় অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচে ফকল্যান্ড বা মালভিনাস–সংক্রান্ত কোনো পতাকা কিংবা রাজনৈতিক বার্তাসংবলিত ব্যানার ও সামগ্রী স্টেডিয়ামে বহনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
Leave a comment